বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস ও কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে সক্ষমতার বাইরে বছর বছর বেশি কাজ দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের বই ছাপানোর বিস্তর অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমানের অপসারণ দাবি করেছে বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে মুদ্রণশিল্প সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলেন সমিতির নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে মুদ্রণশিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত বলেন, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সহযোগিতায় সক্ষমতার বাইরে কার্যাদেশ পায় অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস এবং কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স নামক দুটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠের অযোগ্য কাগজে পাঠ্যবই সরবরাহ করে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা জমা দিয়েছে চার-পাঁচ মাস পরে অর্থাৎ এপ্রিল বা মে মাসে। ২০২২ সালেও তারা একই কাজ করে। কিন্তু এনসিটিবি এ বিলম্ব নথিভুক্ত না করে যথাসময়ে সরবরাহ করেছে বলে নথিভুক্ত করে।
সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ অনিয়মটি সংগঠিত হয়েছে। চলতি বছরের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহ দরপত্র অনুষ্ঠানে এনসিটিবি চেয়ারম্যান এবং উৎপাদক নিয়ন্ত্রক অনিয়মতান্ত্রিকভাবে একতরফা দরপত্র সংশোধনের মাধ্যমে মুদ্রণ সক্ষমতার সংজ্ঞা পরিবর্তন করে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওই দুটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে সক্ষমতার বেশি কাজ দিয়েছে। নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহ এবং বিলম্বের জন্য তাদের বিরুদ্ধে এনসিটিবি কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।
তিনি জানান, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসের অবস্থান নোয়াখালীর চৌমুহনীর স্টেশন রোডে। প্রেসটি ২০২১ সালে মার্চ মাসে, ২০২২ সালে এপ্রিল মাসে এবং ২০২৩ সালে মে মাসে সর্বশেষ পাঠ্যবই সরবরাহ করে, যার রেকর্ড (সরবরাহ চালান) পরিবর্তনের লক্ষ্যে বোর্ড কর্মকর্তার সহযোগিতায় সফটওয়্যার জালিয়াতি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুদ্রিত পাঠ্যবইয়ে ৮০ জিএসএম এর স্থলে ৬০ জিএসএম এর নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা হয়। আর কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স শ্যামপুরের কদমতলী শিল্প এলাকা থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হয়েছে। তারা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সর্বশেষ বই সরবরাহ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
শহীদ সেরনিয়াবাত বলেন, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের একটি প্রতিনিধি দল এনসিটিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে তা বন্ধ করার দাবি জানালে চেয়ারম্যান জানান, এটা উপরের নির্দেশ, তা অমান্য করার ক্ষমতা আমার নেই। দেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যথাসময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য। উপরের কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বা ইচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর এ মহৎ অভিপ্রায় নস্যাৎ করে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নিম্নমানের পাঠ্যবই তুলে দিয়ে তাদের প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা এ দুর্নীতির হোতা চেয়ারম্যান ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রকের অবিলম্বে অপসারণ চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির উপদেষ্টা ওসমান গণি বাবুল, সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান, বর্তমান কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম বাহার, সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য রাব্বানী জব্বার প্রমুখ।
মন্তব্য করুন