কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সংবিধানের বই উঁচু করে অধ্যাপক কার্জন বললেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে

আদালত চত্বরে সংবিধান শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। ছবি : কালবেলা
আদালত চত্বরে সংবিধান শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। ছবি : কালবেলা

আদালতে সংবিধান হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেছেন, মানবধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এরপর তিনি আদালতে বিচারকের কাছে সংবিধান ও আইনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে তোলা হলে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, সাড়ে ১০টায় তাদের এজলাসে তুলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান সবাইকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানিতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শামসুদ্দোহা সুমন কারাগারে আটক রাখার জোর দাবি জানান।

এ সময় অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের উদ্দেশে বলেন, মাননীয় আদালত, আপনি অনুমতি দিলে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের সঙ্গে মানবধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৩৩ অনুসারে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা দেওয়া হয় নাই। আমাদের আইনজীবী ঠিক করতে দেওয়া হয় নাই। আমি একজন শিক্ষক। থানায় জেলখানায় একটা ফ্যান ছিল না, সাবান ছিল না। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমরা ভিক্টিম। সারা পৃথিবীতে ভাইরাল হয়েছে এটা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যা বলেছেন সব মিথ্যা। আমি এর প্রতিকার চাই। আমাদের যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাই। আর এখনই জামিন দেবেন।

সাবেক এ অধ্যাপক আরও বলেন, গতকাল ১০টায় ডিআরইউতে যে প্রোগ্রাম ছিল সেটা আহ্বায়ক জহিরুল হক পান্না, তাকে আপনারা চেনেন-জানেন। আর ওই মঞ্চের সদস্যসচিব একজন বীর মুক্তিযুদ্ধো, ড. কামাল হোসেনের সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল। আমি সেখানে আলোচক হিসেবে ছিলাম। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা হয়। তখন একদল সন্ত্রাসী ঢুকে মব করে আমাদের তুলে দেয়। আমরা ভিক্টিম। যারা অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্সজনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।

শুনানি শেষে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষক কার্জন আদালত চত্বরে সংবিধানের বই উঁচু করে সবাইকে দেখান। আর বলেন, এই সংবিধান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এটা রক্ষা করতে হবে।

এদিকে শুনানি শেষে শিক্ষক কার্জনের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী গণমাধ্যমে বলেন, গ্রেপ্তারের পর লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে যেভাবে রাখা হয়েছে সেখানে একটি ফ্যান পর্যন্ত নেই। ধুলাবালির মধ্যে তাদের রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। সেখানে সংবিধানের ৩৩ আর্টিকেল অনুসারে যে অধিকার রয়েছে সেটি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এটাই আসামি আদালতে বলেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউসিটিসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান

হলুদ হেলমেট পরে হামলা করেছে কারা?

মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন ভারতীয় সাংবাদিক

‘জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা করেছে জাপা’

ভারতের দাপুটে জয়, সাফ শিরোপা হাতছাড়া বাংলাদেশের

গাজায় সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিচার দাবি

অশুভ শক্তি দমনে ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে : কামাল হোসেন

জাপা কার্যালয়ের সামনে ফের হামলা, গুরুতর আহত নুর

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জমজমাট লড়াই : মিস করা যাবে না এই ১০ ম্যাচ

বে গ্রুপে আবেদন করুন, আর দুদিন বাকি

১০

নারী সেজে কিশোরীকে ধর্ষণ করলেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা

১১

শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

১২

সবচেয়ে সুবিধাবাদী দল জামায়াতে ইসলামী : এলডিপি মহাসচিব

১৩

শনিবার যেসব জেলায় বিদ্যুৎ থাকবে না

১৪

চাকসুর দপ্তরের দুই পদে প্রার্থী হতে পারবেন নারীরাও

১৫

দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে আ.লীগ নেতারা ফান্ডিং করছে : সপু

১৬

ফুডপান্ডায় অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ, আবেদন করুন আজই

১৭

‘আমরা এমন সরকার গঠন করতে চাই যার সবাই ভালো’

১৮

প্রতিদিন এক কাপ লবঙ্গ চায়ের ৯টি দারুণ উপকারিতা

১৯

সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি নুরের

২০
X