কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:২৪ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গার্মেন্টশিল্পের তিন নেতার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

ছবি : ‍সংগৃহীত
ছবি : ‍সংগৃহীত

সম্প্রতি পোশাক শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনের খবর বাতাসে ঘুরছে। এটা একটা নিত্যকার ঘটনা যা আমরা সবসময় শুনে আসছি। তবে এসব নিয়ে কিছু অপ্রকাশিত বিষয় সচরাচর সবার সামনে আসে না।

আমরা সেই গল্পগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখানে পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত ৩ স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কল্পনা আক্তার, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার ও কল্পনা'র সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে বেশ প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন কল্পনা আক্তার, যিনি জীমু নামেও পরিচিত। তিনি একই সাথে বিসিডব্লিউএসের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গার্মেন্টস শিল্পের একদম কেন্দ্র থেকে জীমুর যাত্রা শুরু। বাংলাদেশে মাত্র ১২ বছর বয়সে শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তার প্রথম দিকের সংগ্রাম এমন পথ খুলে দিয়েছে যা তাকে শ্রমিকদের অধিকার সমর্থনে অগ্রগামী ভূমিকা পালনে সাহায্য করেছে।

তবে শ্রমিকদের পক্ষে ওকালতির পরও তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২-২৩ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে তিনি ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩৩ টাকা খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। একজন সাবেক গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে তার এ ধরনের খরচ ভ্রুকুটির সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। কারখানার মেঝে থেকে বিশ্বমঞ্চে জীমুর যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল থেকে তার উঠে আসার যাত্রার সঙ্গে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে বিদেশ ভ্রমণের বৈপরীত্য নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলছে।

গত ১২ মাসে কল্পনা আক্তারের বিদেশ ভ্রমণের সময়রেখা এবং আর্থিক ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার ভ্রমণের সময় কখন এবং কত টাকা ব্যয় হয়েছিল তার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

সমৃদ্ধির এমন দৃষ্টান্ত তাদের সম্পদের উৎস সম্পর্কে তদন্তের দাবিকে ত্বরান্বিত করে। এ ছাড়া এমন বেমানান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনৈতিক অনুশীলনের সন্দেহকে বাড়িয়ে তুলে।

সবার মনে প্রশ্ন উঠছে, একসময় যারা গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন এবং যাদের বেতন সাধারণত বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তারা কীভাবে এত ঘন ঘন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেন এবং সম্পদের মালিক হতে পারেন। এসব প্রশ্ন তথাকথিত গার্মেন্টস নেতাদের আর্থিক সংগতি নিয়ে তদন্তের বিষয়ে সুশীল সমাজ দাবিকে ত্বরান্বিত করেছে।

যেহেতু গার্মেন্টস খাত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, কয়েকজনের ক্রিয়াকলাপ এ শিল্পের ওপর কালো ছায়া ফেলছে। এসবের মাধ্যমে রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে বিপন্ন করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্পের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে এসব ব্যক্তির সম্পদের উৎস সম্পর্কে ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন শান্ত

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পাঠাও চালকের মৃত্যু

গণভোটের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে : আলী রিয়াজ

আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না : ঐন্দ্রিলা

গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ ট্রাম্পের

ড. ইউনূস নির্বাচনের পর কী করবেন, জানাল প্রেস উইং

বিইউবিটিতে ‘হাল্ট প্রাইজ’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ঢাবি শিক্ষক গোলাম রাব্বানির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির দাবিতে স্মারকলিপি 

ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

১০

আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপের দাম বাড়ছে, দেশে এমএস রডের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

১১

বাবা-ছেলেকে একাদশে রেখে অনন্য কীর্তি নোয়াখালীর

১২

তদন্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল : প্রাথমিকের ডিজি

১৩

যে কোনো সময় ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প

১৪

ঠান্ডারও মুড সুইং হচ্ছে : ভাবনা

১৫

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই, জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল

১৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ-প্রচারণা নিষিদ্ধ

১৭

গণতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়ার উপহার : আমীর খসরু

১৮

উত্তেজনার মাঝেই ভারতে আম্পায়ারের ভূমিকায় বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা

১৯

জামায়াতের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক

২০
X