

ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই আমি রাজনীতি করি। প্রতিশোধ নয়, ঐক্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই আমরা একটি নিরাপদ ও মানবিক এলাকা গড়ে তুলব।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর দনিয়া ৬১নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিন বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের উপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে তা নজিরবিহীন। মসজিদের খুতবার বক্তব্য পর্যন্ত সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যারা মানেনি তাদের চাকরিচ্যুত, মামলা ও কারাবরণ করতে হয়েছে।
তানভীর আহমেদ রবিন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমি শৈশবে নিজ হাতে বেগম খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছি। আমার বাবা জেলে থাকা অবস্থায়ও তিনি আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মমতা, সাহস ও নেতৃত্বই আমাকে রাজনীতিতে এনেছে। এত নির্যাতনের পরও খালেদা জিয়া কখনো প্রতিশোধের রাজনীতি করেননি; বরং তিনি জাতিকে ঐক্যের পথে ডাক দিয়েছেন।
সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর অঙ্গীকার করে রবিন বলেন, আমার দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা কিশোর গ্যাংকে আশ্রয় দেয় তাকে প্রথমেই আইনের আওতায় আনা হবে। কেউই ছাড় পাবে না।
তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
নাগরিক সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ ঢাকা-৪ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরে রবিন বলেন, পানি নিষ্কাশনের অভাব জলাবদ্ধতা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি রাস্তার বাতি ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট- এসব সমাধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই, কবর দেওয়ার জন্য জায়গা নেই। সরকারি জমি উদ্ধার করে সেখানে মাঠ, কবরস্থান, কমিউনিটি সেন্টার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তুলব।
তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করে রবিন বলেন, এই ৩১ দফা শুধু রাজনীতি নয়, এটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও নিরাপত্তার রূপরেখা।
এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে তিনি জানান, Google Play Store-এ ‘Tanvir Ahmed Robin’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ ও তথ্য পাঠাতে পারবেন পরিচয় থাকবে সম্পূর্ণ গোপন।
রবিন বিএনপি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কথা স্মরণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে শহীদ জিয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল, ডেমরা কলেজ, শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাতুয়াইল মাতৃসদন হাসপাতাল।
তিনি বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আন্দোলনে শহীদদের এবং অসুস্থ মুরুব্বিদের জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন, আমি এই এলাকার মাটি দিয়েই তৈরি। এই এলাকার মানুষের সেবা করেই এখানেই জীবন শেষ করতে চাই।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য হাজী জুম্মুন মিয়া, ৬১ নং ওয়ার্ড বিএনপির হাজী মোহাম্মদ শাহ আলম, সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ মাসুদ আলী সহ স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন