

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোমবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সহ ইমিগ্রেশন সূত্র।
বিমানবন্দরে নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ যুক্তরাষ্ট্র দুতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন শূন্য থাকা রাষ্ট্রদূতের পদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে তার আগমনে।
গত ৯ জানুয়ারি (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ গ্রহণ করেন ক্রিস্টেনসেন। শপথের পর তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত, এই দেশ আমি খুব ভালোভাবে জানি। তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের টিমকে নেতৃত্ব দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাঙ্কের সদস্য। তিনি ২০১৯-২০২১ সালে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০২২-২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া তার কর্মজীবনে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর যা করবেন রাষ্ট্রদূত :
ঢাকায় পৌঁছে ক্রিস্টেনসেন রাষ্ট্রপতি কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সব পক্ষের মতামত জানবেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যা ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবেন। মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভবিষ্যৎ উদ্যোগ ও দুই দেশের বাণিজ্য বাধা কমিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উপর্যুপরি ব্যবস্থা নেবেন।
ক্রিস্টেনসেনের কূটনৈতিক গুরুত্ব :
পিটার হাসের বিদায়ের পর থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনসহ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য থাকার পর ক্রিস্টেনসেনের আগমনকে কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার অভিজ্ঞতা ও পূর্ব পরিচিতি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন স্থিতিশীলতা ও গতি আনবে। যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন চেয়েছে। সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আরও সক্রিয় হতে পারে, এবং নির্বাচনে অনিয়ম হলে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
মন্তব্য করুন