বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে এবার যুক্ত হয়েছে জাপানের তৈরি ১৮টি ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট কার্গো-ব্যাগেজ টো-ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। সোমবার (১১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শফিউল আজিম এসব ইক্যুপমেন্টের কমিশনিং করেন।
কমিশনিং করা অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে দুটি অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট পুশ-ব্যাক টো-ট্রাক্টর এবং নতুন সেডান ভিআইপি কার রয়েছে। বিমান কর্মকর্তারা বলছেন, বিমান সংস্থায় এসব অত্যাধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে সেবার মান বাড়ল। এতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বিমানের সক্ষমতা আরেক ধাপ এগুলো।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বেবিচক) সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনালের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ এপ্রিল সব কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ৬ এপ্রিল বেবিচক বুঝে নেবে। এরপর থেকে নানা ট্রায়াল শেষে অপারেশন শুরু করবে এই টার্মিনাল। অপারেশন প্রথম দিন থেকেই নতুন টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রয়োজন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি। তাই শুরুতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিমান চাচ্ছে স্থায়ীভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব নিতে। চূড়ান্তভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার আগে তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে দেখাবে।
বিমান কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানের জিএসই বিভাগের অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় জাপানের তৈরি ১৮টি ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট কার্গো/ব্যাগেজ টো-ট্রাক্টর জিএসই বহরে সংযোজিত হওয়ায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের তৈরি দুটি অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট পুশ-ব্যাক টো-ট্রাক্টর জিএসই বহরে যুক্ত হওয়ায় ফ্লাইট অনটাইম ডিপার্চার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম জানান, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বিমান জিএসই বিভাগে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও শতাধিক বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক ব্র্যান্ড নিউ গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইক্যুইপমেন্ট যুক্ত হবে।
জিএসইর পাশাপাশি বিমান যানবাহন শাখার অধীনে ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ স্টেশনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মোট ৫৩টি সেডান কার, ৬৩টি মাইক্রোবাস, ৩টি পাজেরো জিপ, ৬টি পিক-আপ ভ্যান, দুটি অ্যাম্বুলেন্স, চারটি মোটরসাইকেল ও একটি মিনিবাস রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ৪টি ব্র্যান্ড নিউ সেডান ভিআইপি কার বহরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি নতুন মাইক্রোবাস ও আরও একটি সেডান ভিআইপি কার বিমান যানবাহন বহরে শিগগিরই যুক্ত হবে।
বিমানের যানবাহন বিভাগে আয়োজিত কমিশনিং ও প্রর্দশনী অনুষ্ঠানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বিমানের পরিচালক এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন