কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় শিব নারায়ণ দাশকে শেষ বিদায়

শিবনারায়ণ দাসের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি : সংগৃহীত
শিবনারায়ণ দাসের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় পতাকার প্রথম নকশাকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ও সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিব নারায়ণ দাশের কফিন নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সকাল পৌণে ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিরা তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

৭৫ বছর ৪ মাস বয়সী শিব নারায়ণ দাশ শুক্রবার সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শহীদ মিনারে শিব নারায়ণ দাশের কফিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের সঙ্গে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খানও শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় নারী জোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগ, পুলিশ থিয়েটার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, গণজাগরণ মঞ্চ, সহযাত্রী, মনিপুরপাড়া তরুণ সংঘ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বাংলাদেশ গ্রুপ ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ইত্যাদি সংগঠনের সদস্যরা।

শ্রদ্ধা নিবেদনে শেষে ড. আব্দুর রাজ্জাক কালবেলাকে বলেন, শিব নারায়ণ দাশের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কুমিল্লাতে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে ৬০ দশকে যারা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে শিব নারায়ণ দাশ একজন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নকশায় অবদান রেখেছেন। তার এই অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। সর্বোপরি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার কালবেলাকে বলেন, জাতীয় পতাকার প্রথম নকশাকার হিসেবে তাকে আমরা মনে রাখবো। । দেশের জনগণের জন তিনি তার দেহ দান করেছেন। শিব নারায়ণ দাশ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তার সমস্ত কিছু দিয়ে গেছেন। যারা জাতীয় পতাকার রূপকার তাদেরকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র সঠিক সম্মান জানাতে পারেননি। তাদেরই একজন ছিলেন শিব নারায়ণ দাশ।

কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সভাপতি মাহফুজা খানম কালবেলাকে বলেন, তিনি ছাত্রলীগ, আমরা ছাত্র ইউনিয়ন করলেও তার সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। যা আমৃত্যু বজায় রয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে ৬৬’র ৬ দফা, ’৬৯ এর আন্দোলন, ৭০ এ তিনি জাতীয় পতাকায় সবুজ জমিনে লাল সূর্য আর বাংলাদেশের মানচিত্র এঁকেছিলেন। তার আঁকা জাতীয় পতাকার নকশাটি নিউমার্কেটের একটি দোকান থেকে সেলাই করা হয়েছিল। এভাবে প্রতিটি ঐতিহাসিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তার কথা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করতে হবে।

তার একমাত্র সন্তান অর্ণব আদিত্য দাশ বলেন, আমার বাবা এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কোনোসময় অন্যায়, দুনীর্তি, মিথ্যাচারের সাথে আপোষ করেননি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীকে প্রতিনিধিত্ব করছে যে জাতীয় পতাকা, সেই জাতীয় পতাকার সাথে যিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। যার শিল্পীসত্ত্বা, সাহস দেশপ্রেম আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। জাতীয় পতাকার প্রথম নকশাকার শিব নারায়ণ দাশ পরলোকে চলে গেলেও, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতীয় পতাকা থাকবে। ততদিন শিব নারায়ণ দাশ জীবিত থাকবেন।

এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শিব নারায়ণ দাশের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা নিয়ে যাওয়া হয়। কুমিল্লা টাউন হলে বিকেলে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপের দাম বাড়ছে, দেশে এমএস রডের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

বাবা-ছেলেকে একাদশে রেখে অনন্য কীর্তি নোয়াখালীর

তদন্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল : প্রাথমিকের ডিজি

যে কোনো সময় ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প

ঠান্ডারও মুড সুইং হচ্ছে : ভাবনা

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই, জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ-প্রচারণা নিষিদ্ধ

গণতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়ার উপহার : আমীর খসরু

১০

উত্তেজনার মাঝেই ভারতে আম্পায়ারের ভূমিকায় বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা

১১

জামায়াতের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক

১২

এসআইসিআইপির আওতায় কমিউনিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্ব চুক্তি

১৩

দুই দিন পর পরিচয় মিলল নদ থেকে উদ্ধার মরদেহের

১৪

২০২৬ বিশ্বকাপ : আর্জেন্টিনা স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিত যাদের

১৫

প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি আখতার হোসেনের

১৬

শরীরে দুর্গন্ধ? জেনে নিন কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিকার

১৭

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে চরম শায়েস্তার হুঁশিয়ারি ইরানের

১৮

ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ জয়ের অপেক্ষা ঘুচবে কবে?

১৯

দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮, হারালেন ৭ জন

২০
X