বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে ও কারফিউ চলাকালে সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধীদলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ব্লক রেইড দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রী-নেতারা বারবার প্রকৃত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিতের কথা বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। প্রকৃত অপরাধীদের না খুঁজে বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের দমনে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার।
ফখরুল বলেন, তাদের এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বাসা বাড়ির বেলকনি, পড়ার ঘর বা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট সোনামনিরা পর্যন্ত বাদ যায়নি। কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে যে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে সেটির সর্বশেষ প্রমাণ হলো-দেশ বিদেশের সব নাগরিক দেখার পরও রংপুরের আবু সাঈদের মৃত্যুকে গুলিতে নয়, ইটের আঘাতে মৃত্যু বলা হচ্ছে। তবে মিথ্যাচার, অপকৌশল ও নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে সত্যকে জনগণ থেকে আড়াল করতে পারবে না অবৈধ আওয়ামী সরকার। তাই সব দায় নিয়ে সরকারের উচিত জনদাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পদত্যাগ করা।
সোমবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে এসে চাপ প্রয়োগ করে নির্যাতনের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা যায়। কিন্তু আবেগ-অনুভূতি এবং সঙ্গীদের রক্তমাখা শার্টের গন্ধ শিক্ষার্থীদের বিবেককে সবসময় তাড়া করবে, সুযোগ পেলেই তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নির্যাতনের পর আবারও নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রিয়াদ ইকবাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাবকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নেওয়ার পর তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দেশব্যাপী নিরীহ ছাত্র-জনতা এবং বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার, গুম করে রাখা, নির্যাতনের পর পুনরায় নির্যাতনের লক্ষ্যে সিনিয়র নেতাদের বারবার রিমান্ডে নেওয়া, গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন চালানো বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত ঘটনা। অবিলম্বে এসব দমনপীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ভয়-ভীতির কারণে দেশব্যাপী সরকারের নির্মম ও নির্দয় অত্যাচার এবং নিপীড়নের সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিভিন্নভাবে যেসব তথ্য আসছে সেগুলো রীতিমতো লোমহর্ষক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অনেককে তুলে নিলেও তাদের খোঁজ মিলছে না। আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৪/৫ দিন বা এরও বেশি সময় পর আদালতে নেওয়া হচ্ছে। আটকের পর এবং রিমান্ডে থাকা, এমনকি কারাগারে থাকা অবস্থায় আটককৃতদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থী বা নেতাকর্মীদের আটক করতে বাসা-বাড়িতে অভিযানের নামে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, গণগ্রেপ্তারের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা নেতাকর্মীদের বাসায় ছিনতাই ও লুটপাটের দৃশ্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এরআগেও এসব অন্যায়, আটক, নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদ করা হয়েছে কিন্তু কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী ভোটারবিহীন সরকার তা কর্ণপাত করেনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সরকারের এসব মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে তা বন্ধ করার আহ্বান জানালেও সরকার তা অব্যাহত রেখেছে এবং দিন দিন তা বৃদ্ধি করছে। কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অনির্বাচিত ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতার ভীত নড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন