কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩০ এএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

সরকার কড়াইলের বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকারের তোয়াক্কা করছে না : সাকি

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে গণসংহতি আন্দোলনের রিলিফ ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে গণসংহতি আন্দোলনের রিলিফ ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। ছবি : কালবেলা

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ঢাকা শহরের চালিকাশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানকার মানুষ। অথচ এই সরকার বা রাষ্ট্র তাদের জন্য ন্যূনতম কোনো দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না। নাগরিক হিসেবে তাদের যে অধিকার ও মর্যাদা, তার কোনো তোয়াক্কা সরকার করছে না।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তির রাহাত আলী শাহ (র) খানকাহ প্রাঙ্গণের পাশে স্থাপিত গণসংহতি আন্দোলনের রিলিফ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এটি একটি দুর্যোগ। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উচিত ছিল দ্রুত এখানকার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা এবং খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলোর জন্য অবিলম্বে তাঁবু খাটিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা। তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিই এ কারণেই যে, জনগণ যখন বিপদে পড়বে, তখন সরকার এগিয়ে আসবে। কিন্তু আমরা সরকারের সেই উদ্যোগ বা নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার কোনো ব্যবস্থা এখনো দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, অবিলম্বে কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে প্রত্যেকের খাবার, থাকার জায়গা, শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ দ্রুততম সময়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান সাকি।

তিনি বলেন, যতদিন না কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারেন এবং নিজেদের বাসস্থান গুছিয়ে নিতে পারেন, ততদিন পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এটি দুর্যোগকালীন সময়ের অত্যাবশ্যকীয় কাজ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ঢাকা শহর এমন একটি অবস্থায় পরিণত হয়েছে—যেখানে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট ও নগ্ন। নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, ঢাকা শহর শুধু ধনীদের জন্য, অথচ শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ছাড়া এই শহর অচল। তাদের এই গণবিরোধী চিন্তা থেকেই বস্তিবাসীদের আবাসন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে। কড়াইল বস্তিতে এত বড় দুর্ঘটনার পরেও জাতীয় পর্যায়ে বা গণমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাওয়ার কথা ছিল, তা দেখা যাচ্ছে না। ঢাকা শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, যাদের শ্রমে শহর চলে—তাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, কড়াইল বস্তিতে লাখ রাখ মানুষ বসবাস করেন। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা না থাকলে সরকারের থাকার যৌক্তিকতা কী? শুধু বড় বড় দালান থাকলেই শহর উন্নত হয় না। এখানকার ছাত্র-তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ মানুষের জীবন আজ হুমকির মুখে। গণসংহতি আন্দোলন সর্বদা মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে আছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে আছি, কিন্তু আমাদের একার পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র ও সরকারকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা; গণসংহতি আন্দোলনের কড়াইল রিলিফ ক্যাম্পের সংগঠক শাহীদা আক্তার, মোহাম্মদ মোতালেব, আবুল কালাম, আবদুর রহিম; দলের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভুইয়া, আলিফ দেওয়ান, মনিরুল হুদা বাবন, আমজাদ হোসেন, সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন, তাহসিন মাহমুদ, আবু রায়হান খান; বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরের নেতা ইয়াসিন খান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন শেষে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন জোনায়েদ সাকিসহ দলের নেতাকর্মীরা।

কালবেলা/এমএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্কুলছাত্রী ঝুমা হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১৯ কার্যদিবসে বিচার শেষ

‘চোখের বদলে চোখ’, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের দাবি উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি

আগামীকালই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পুনরায় শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

‘এখানে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই’, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিরোজপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে আগুন

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া

সীমান্তে ৭ পুশইন: দুজনের খোঁজ মিলেলেও নিরুদ্দেশ ৫

১০

মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট-পাউরুটি দিয়ে তৈরি হতো খাবার, লাখ টাকা জরিমানা

১১

নজরুলের ভিডিওকাণ্ডে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ, আলোচনায় নতুন ভিডিও

১২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল পাস

১৩

আর্জেন্টিনার বর্তমান দলের কারা খেলবেন ২০৩০ বিশ্বকাপ, আগেই বিদায় নিবেন যারা!

১৪

উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি

১৫

থাইল্যান্ডে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা, নিহত ৫ আধাসামরিক সদস্য

১৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

১৭

থাকবে যেসব সুবিধা  / আগস্টেই মিলবে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

১৮

বিয়ের চাপে প্রেমিকাকে হত্যা, প্রেমিক গ্রেপ্তার

১৯

‘ইরান-ইরাকের গভীর বন্ধন কোনো সীমান্ত বা শক্তি বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না’

২০
X