

খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলিতে শিশু ধর্ষণ মামলার দুই আসামি নিহত হওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়া এই তথ্য একদমই ভিত্তিহীন।
কারণ শুক্রবার (২২ মে) খুলনার আদালত চত্বরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। একাধিক সূত্রে খোঁজখবর নিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে কালবেলায় এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘আজ খুলনাতে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জুমার নামাজ আমি আদালতের পাশের মসজিদেই পড়েছি। এসব ভুয়া। যারা ফেসবুক-ইউটিউব পেজ চালায়, তারা ভিউ ব্যবসার জন্য এসব ছড়াচ্ছে।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই টেলিভিশন নিউজ করার আগে আমার কাছে বক্তব্য নিয়েছে, আমি বলেছি এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারপরও তারা নিউজে বলছে, খুলনায় এরকম কোনো ঘটনা ঘটলেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এগুলো জনমানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।’
যদিও বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নগরের লবণচরা থানার পুটিমারী বাজারের জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে ঢুকে যুবদলের এক নেতাকে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও একজন।
গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহ (৩৩) পুটিমারী বাজার কমিটির সভাপতি এবং ইউনিয়ন যুবদল নেতা। গুলিবিদ্ধ অপরজন হলেন জাহিদ। তারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার পুটিমারী বাজারে জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মাসুম বিল্লাহ ও হামলাকারী পারভেজ পূর্বপরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ পিস্তল দিয়ে মাসুমকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে সেখানে উপস্থিত জাহিদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে মাসুমের পায়েও গুলি করা হয়।’
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই জানতে পারতাম। কাল সর্বশেষ বিএনপি অফিসে গোলাগুলি হয়। এরপর নগরীতে আর কোনো সহিংসতা হয়নি।’
এছাড়াও কালবেলার জেলা প্রতিনিধি তানভীর আহমেদও ঘটনার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনিও নিশ্চিত করেছেন খুলনায় শুক্রবার এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, ভাইরাল ওই ভিডিওটি ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের। গত বছর ৩০ নভেম্বর আদালত চত্বরে দুজনকে হত্যাকাণ্ডের সময় খুলনা সদর থানার ওসি ছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম। এখন যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, এটি পুরোনো ভিডিও বলে তিনি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও ভিডিওতে দায়িত্বরত যেসব পুলিশকে দেখা যাচ্ছে, তাদের পরনে পুলিশের পুরোনো পোশাক দেখা যাচ্ছে। তাতেও নিশ্চিত করা যাচ্ছে এই ভিডিওটি পুরোনো। কারণ, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে নতুন পোশাক পরা শুরু করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরেছেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর ক্রমান্বয়ে সারা দেশে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা তাদের নতুন পোশাক পান।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মূলত ৩০ নভেম্বর ২০২৫, রোববার দুপুর পৌনে ১টার। সেদিন আদালতে হাজিরা দিয়ে রাজেন ওরফে রাজন (৩৫) ও হাসিব (৩১) আদালতের প্রধান ফটকের সামনে একটি মোটরসাইকেলে বসেছিলেন।
এ সময় ৪-৫টি মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি চালায়। পরে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুজনকে জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে রাজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, আর হাসিব গুরুতর আহত হন।