

ইয়েমেনের প্রধান দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির মহাসচিব। তবে এই ঘোষণাকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন এসটিসির মুখপাত্র। তিনি এটিকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনি টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এসটিসির মহাসচিব আবদুর রহমান জালাল আল-সুবাইহি জানান, দক্ষিণ ইয়েমেন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই সংগঠনটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি দক্ষিণ ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরবের নেওয়া উদ্যোগ ও সমাধানের প্রশংসা করেন।
তবে আবুধাবিতে অবস্থানরত এসটিসির মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি এই ঘোষণাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, এই খবর সম্পূর্ণ হাস্যকর। তিনি জানান, রিয়াদে থাকা এসটিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই, যা সংগঠনটির ভেতরে বিভক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-তামিমি বলেন, এসটিসি সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক এবং সংগঠনের সভাপতির অধীনেই নেওয়া যেতে পারে। রিয়াদে আটক প্রতিনিধিদল মুক্তি পেলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, এসটিসির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি শনিবার এডেন ও মুকাল্লা শহরে বিক্ষোভে অংশ নিতে সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে। তারা দক্ষিণ ইয়েমেন ইস্যুতে ‘আংশিক বা বিভ্রান্তিকর সমাধান’ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে, এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদে আলোচনায় অংশ না নিয়ে সোমালিল্যান্ড হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এসটিসি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণাকে দক্ষিণ ইয়েমেন ইস্যুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় একটি ‘সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনকে পুনরায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছিল।
মন্তব্য করুন