

বাংলাদেশসহ সাত দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরব। দেশটি সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের আওতায় ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে, যার মাধ্যমে রিটার্ন বিমান টিকিট, অনুমোদিত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ই-ভিসা- সবকিছুই একসঙ্গে বুক করা যাবে।
ফলে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুক্রবার (১০ জুলাই) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে তথ্যটি জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রাথমিকভাবে এই নতুন ভিসা প্যাকেজ কর্মসূচির জন্য সাতটি দেশকে নির্বাচন করেছে। এসব দেশের নাগরিকরা একটি সমন্বিত ভ্রমণ বুকিংয়ের অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে এ সুবিধা পাচ্ছেন মিশর, জর্ডান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোর নাগরিকরা। সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন দেশের জন্যও এই সেবা চালু করা হবে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় একটি বুকিংয়ের মাধ্যমেই ভ্রমণকারীরা পুরো সফরের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে রিটার্ন ফ্লাইট, অনুমোদিত পর্যটন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাকেজ কেনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইলেকট্রনিকভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে। অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং সম্পন্ন করার পর ভ্রমণকারীরা ইমেইলের মাধ্যমে ভিসা, ভ্রমণ বীমা এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র পেয়ে যাবেন।
গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রিজারভাল ও আলমোসাফ- এই দুটি ট্রাভেল এজেন্সি এ পরিসেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ভিসার মেয়াদ হবে তিন মাস। এই ভিসায় একবার সৌদি আরবে প্রবেশ করা যাবে এবং দুই দিন থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ দিন পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগ থাকবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল। এরপর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ হবে। ভিসা প্রদান ও ভ্রমণ বীমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল।
এ ছাড়া, ভ্রমণকারীরা চাইলে তাদের বুকিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ইভেন্টের টিকিট এবং বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতার মতো ঐচ্ছিক পরিষেবাও যুক্ত করতে পারবেন।
তবে প্যাকেজগুলোর মধ্যে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ-সম্পর্কিত কোনো পরিষেবা বা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নেই। যদিও এই ভিসাধারীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কা, মদিনাসহ দেশটির যে কোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন।
অপ্রত্যাশিত কারণে ফ্লাইট বা হোটেল বুকিং বাতিল হলে অর্থ ফেরত এবং বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ভ্রমণসেবা প্রদানকারীর নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচিকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ