

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের কোনো বিশ্বাস নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন যদি কোনো সমঝোতা লঙ্ঘন করে, তাহলে ইরান আত্মরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার গণপরামর্শক পরিষদের স্পিকার আহমদ মুজানির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রেও ইরান সবসময় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
ঘালিবাফের দাবি, সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা চলাকালে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সরাসরি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই। যে দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে, কেবল সেই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরান কখনোই নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করেনি। যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জবাব দেবে এবং জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। তবে তার দাবি, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরান আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার বিষয়টিও তেহরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিদল ইরান সফর শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য, সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একজন অবগত কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সফরের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছে। বৈঠকগুলোয় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং সম্ভাব্য নতুন আলোচনা শুরুর পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।