

কানাডার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতির অভিযোগ তুলে দেশটির বেশ কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির।
সোমবার (২০ জুলাই) হোয়াইট হাউস জানায়, নতুন শুল্ক আগামী ৩০ দিন পর কার্যকর হবে। এর আওতায় ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন কানাডীয় পণ্য থাকবে।
চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি শুল্ক আদেশ বাতিল করার পর এবার তিনি ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট-এর ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করে নতুন এই শুল্ক আরোপ করছেন। এর আগে এই আইনি বিধান প্রয়োগের নজির নেই।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জ্বালানি, পটাশ এবং আগে থেকেই খাতভিত্তিক শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতাভুক্ত অনেক পণ্যের ওপরও এ শুল্ক কার্যকর হবে।
এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, নতুন শুল্ক ইউএসএমসিএ চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি জানান, বিরোধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আরও জোরদারে কানাডা প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ফেরার পর ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করলেও উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত অধিকাংশ পণ্য এতদিন ছাড় পেয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। কয়েক দিন আগেই কানাডা থেকে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার কারণে দেশটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্পের গত বছরের শুল্কনীতির জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া মাত্র দুটি দেশের একটি ছিল কানাডা, অন্যটি চীন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহলজাত পণ্য কানাডার অধিকাংশ প্রদেশের বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ারও সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার মন্তব্যের প্রতিবাদে এসব পণ্য বয়কট করা হয়েছিল।