কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের আশঙ্কা, পালাচ্ছেন হাজারো বাসিন্দা

এলাকাসীর ভিড়। ছবি : সংগৃহীত
এলাকাসীর ভিড়। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সামরিক অভিযানের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাজার হাজার বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদে মাইকিং করে পরিবারগুলোকে এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিরাহ উপত্যকার বাসিন্দারা জানান, আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এই অঞ্চল থেকে তারা নিকটবর্তী শহরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রবল তুষারপাত ও শীতল আবহাওয়া সত্ত্বেও সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই তারা ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

তিরাহ উপত্যকা থেকে ৭১ কিলোমিটার দূরে বারার শহরে আশ্রয় নেওয়া দোকানদার গুল আফ্রিদি বলেন, মসজিদে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল সবাই যেন এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তাই সবাই যাচ্ছিল, আমরাও চলে এসেছি।

স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাজারো পরিবার এলাকা ছেড়ে গেছে এবং নিকটবর্তী শহরগুলোতে তাদের সহায়তার জন্য নিবন্ধন করা হচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, তিরাহ উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এটি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হয়। এই গোষ্ঠীটি পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উচ্ছেদ কর্মসূচি বা সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ দাবি করেন, তিরাহে কোনো সামরিক অভিযান পরিকল্পিত বা চলমান নয়। এটি কঠোর শীত ও তুষারপাতজনিত মৌসুমি স্থানান্তর।

সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তিরাহে জঙ্গিদের উপস্থিতি নিয়ে কয়েক মাস ধরে উপজাতীয় নেতা, জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আলোচনা চলছিল। ওই সূত্রের দাবি, জঙ্গিরা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবস্থান করছিল এবং স্থানীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল।

সূত্রটি জানিয়েছে, বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে লক্ষ্যভিত্তিক গোয়েন্দা অভিযান চলার সময় সাধারণ মানুষকে সাময়িকভাবে এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেই বলেও জানানো হয়।

এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, তিরাহে স্থানান্তর বা কোনো নিরাপত্তা অভিযান সম্পর্কে তার সরকারকে অবহিত করা হয়নি। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তুষারপাতের কারণে নয়, বরং নিরাপত্তা অভিযানের অজুহাতে ভয়াবহ শীতের মধ্যেই মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের আইএসপিআর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রাদেশিক সরকার কেউই শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহার ঘোষণা, প্রাধান্য পাবে যেসব বিষয়

আকাশে কিছু কালো চিল ঘোরাফেরা করছে : জামায়াত আমির

রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনে জনগণের দায়িত্ব বিএনপিকে বিজয়ী করা : রবিউল

একমাত্র বিএনপিরই দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে : তারেক রহমান

‘ভুলবশত’ সত্যটাই জানিয়ে দিল পাকিস্তান!

পাকিস্তানে হামলায় নিহত বেড়ে ২১

ইরানের বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ, জানা গেল নিহতের সংখ্যা

রোববার জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা হচ্ছে না

ইথিওপিয়ায় ড্রোন হামলা, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৫৮ হাজার টন গম

১০

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে পাকিস্তানের বার্তা

১১

নির্বাচনী প্রচারণায় আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সিঁথি

১২

১২ ঘণ্টায়ও ফলাফল ঘোষণা না হলে অসৎ উদ্দেশ্য আছে : মির্জা আব্বাস

১৩

নতুন করে কোনো স্বৈরাচারের উৎপত্তি হতে দেওয়া হবে না : সালাহউদ্দিন

১৪

প্রথম ১০০ দিনে জনগণের সমস্যা নিরসনের আশ্বাস হামিদুরের

১৫

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে আ.লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেবেন, দাবি বিএনপি প্রার্থীর

১৬

লর্ডসে ঠাঁই পেল বাংলাদেশের স্মরণীয় সেই ৫০ ম্যাচের টিকিট

১৭

পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের আশঙ্কা, পালাচ্ছেন হাজারো বাসিন্দা

১৮

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামায়াতের পাশে না থাকার ঘোষণা এনসিপির

১৯

ইসলামের প্রায়োগিক বিধান জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে : ইবি ভিসি

২০
X