

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের গুলিতে নয় বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) দেশটির পুলিশ জানায়, পাঞ্জাবের চাকওয়াল জেলায় গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। হজ পালন শেষে কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে পাকিস্তানে ফিরেছিল পরিবারটি।
নিহত হানিয়া আহমেদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় তার বাবা আদিল আহমেদ এবং ১০ বছর বয়সী ভাই আফান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হানিয়ার মা সিদরা খান অক্ষত রয়েছেন।
নিহত শিশুর দাদা মাযহার হুসেইন বলেন, হজ থেকে ফেরার পর আত্মীয়দের সঙ্গে নৈশভোজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা। পথেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে ডাকাতরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তবে আমরা নিশ্চিত, পুলিশের গুলিতেই আমার পরিবারের সদস্যরা আহত ও নিহত হয়েছেন।
ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা সংশোধন করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কনস্টেবল শুজাত মুঘলকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হুসেইন জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সদস্যরা ভুলবশত পরিবারের গাড়িটিকে অপরাধীদের গাড়ি মনে করে গুলি চালিয়েছিল।
তিনি বলেন, একজন পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সাম্প্রতিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দুই সন্দেহভাজনের নাম মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ ফাইয়াজ। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে আহত বাবা আদিল আহমেদ বলেন, রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কার্যালয়ের কাছে কয়েকজন অস্ত্রধারী তাদের গাড়ি থামিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতে শুরু করে। আমি ও আমার স্ত্রী তাদের নির্দেশ মেনে চলি। আমার স্ত্রী গয়নাগাটি খুলে তাদের হাতে তুলে দেন।
তার তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। সন্তানদের বাঁচাতে তিনি গাড়ি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পেছন দিক থেকে একের পর এক গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি ও তার দুই সন্তান গুলিবিদ্ধ হন।
পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা হানিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে পাঞ্জাবের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে। সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গত বছর গঠিত এই বিশেষ ইউনিটের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আসছে।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের দাবি, বিভাগটি গঠনের পর থেকে একই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৬৭০টি কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৯২৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।
সূত্র : আরব নিউজ