

লেখক ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকবে এবং ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে ট্রাম্পের।
সোমবার (২৯ জুন) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি বোর্ড রায় দেয়, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করে তার মানহানি করেন। এজন্য আদালত ক্যারলের পক্ষে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে।
ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, মামলার বিচারক এমন কিছু প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা জুরিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত জুরির রায় বহাল রেখে জানায়, নতুন করে বিচার করার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপর ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। তবে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। আদালত এ সিদ্ধান্তের কোনো কারণও জানায়নি।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান বলেন, ‘আজকের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আবারও নিশ্চিত করল যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন। রায়ের বিরুদ্ধে তার একের পর এক আপিল ব্যর্থ হয়েছে এবং নিজের কর্মকাণ্ডের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টার এখানেই সমাপ্তি ঘটল।’
অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনজীবী দলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে রয়েছে। তারা ডেমোক্র্যাটদের অর্থায়নে পরিচালিত তথাকথিত ক্যারল প্রতারণাসহ সব ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির অবসান চায়।’
আপিলে ট্রাম্পের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাকসেস হলিউড’ ভিডিওটি জুরিদের দেখানোর অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি। ওই ভিডিওতে ট্রাম্পকে নারীদের স্পর্শ ও চুম্বন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এদিকে, ক্যারলকে নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্যের জেরে আরেকটি মানহানির মামলায় পৃথক একটি জুরি তাকে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিলও গত সেপ্টেম্বরে খারিজ করে ফেডারেল আপিল আদালত।
যদিও জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী করেছেন, তবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দণ্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায় দেওয়া হয়।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে ২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে মিথ্যাবাদী বলায় তিনি মানহানির অভিযোগও আনেন।