বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৭ এএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৭:৫৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

কমবে না জিডিপি মাথাপিছু আয়

রপ্তানি তথ্য সংশোধনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
কমবে না জিডিপি মাথাপিছু আয়

সম্প্রতি রপ্তানির তথ্য সংশোধনে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ও মাথাপিছু আয় কোনোটিই কমবে না বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার এক ব্যাখ্যায় মন্ত্রণালয় বলেছে, রপ্তানির বিপরীতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রকৃতপক্ষে দেশে আসে, বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু সেই পরিমাণ অর্থ দেশের রপ্তানির পরিমাণ হিসেবে প্রকাশ করে থাকে। আর জিডিপির হিসাব করার সময় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই হিসাবকেই বিবেচনায় নেয়।

অর্থাৎ অর্থমন্ত্রণালয়ের দাবি, যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জিডিপির আকার নির্ধারণ ও মাথাপিছু আয়ের হিসাব পরিমাপ করার রেওয়াজ আগে থেকেই চালু রয়েছে, তাই রপ্তানি তথ্যে গরমিল তৈরি হলেও বিবিএসের এ-সংক্রান্ত সব হিসাবই সঠিক। এর কারণে (জিডিপি) আকার ও মাথাপিছু আয় কোনো অবস্থাতেই প্রকাশিত হিসাব থেকে কম হবে না।

উল্লেখ্য, দেশে রপ্তানি নিয়ে নিয়মিতভাবে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক রপ্তানি আয়ের তথ্য সংশোধন করে। এর ফলে গত দুই অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রায় ২৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার উধাও হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ১০ অর্থবছরে এ দুই সংস্থার রপ্তানি আয় পরিসংখ্যানের পার্থক্য ক্রমেই বাড়তে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গত বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে গত মে পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৭৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। যদিও ইপিবি গত মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরাত দিয়ে প্রকাশ করা তথ্যে দাবি করে, ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫ হাজার ১৫৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এ দুই সংস্থার তথ্যে রপ্তানি আয়ে গরমিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ কোটি ডলার। শুধু গত অর্থবছরেই নয় বরং গত ১০ বছরে দুই সংস্থার তথ্যে গরমিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এই তথ্য সংশোধনের ফলে দেশের অনেক আর্থিক পরিসংখ্যান ওলটপালট হয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পণ্য রপ্তানির তথ্যে গরমিলের বিষয়টি গত ৩ জুলাই সামনে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা বলেছে, এতদিন ইপিবির পরিসংখ্যান ধরে রপ্তানির হিসাব করা হতো। তবে সে অনুযায়ী দেশে রপ্তানি আয় আসছিল না।

এ নিয়ে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এতে গরমিল সংশোধনের পর রপ্তানি আয় কমলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার কমতে পারে। মাথাপিছু আয়, মাথাপিছু জিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতেই এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যেসব হিসাব করা হয়েছে, তা সব ক্ষেত্রেই পর্যালোচনা করা উচিত মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের পাঠানো এ-সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এর ফলে জিডিপি ও মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কিছু প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে, সেসব তথ্য সঠিক নয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তথ্য সংশোধনের ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত রপ্তানি তথ্যে আর কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকবে না।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, লেনদেনের ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অব পেমেন্টের চলতি হিসাব এবং আর্থিক হিসাবের কিছু ক্ষেত্রে উপাত্তের পুনর্বিন্যাস হয়েছে। তবে এর ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের সার্বিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এরই মধ্যে পুনর্বিন্যস্ত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রদত্ত নগদ আর্থিক প্রণোদনার পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রকৃত রপ্তানি আয় প্রাপ্তি এবং তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষকের মাধ্যমে প্রকৃত নগদ প্রণোদনা নিরূপণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সুতরাং সরকার কর্তৃক রপ্তানির বিপরীতে যে নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক রয়েছে।

রপ্তানির তথ্য সংশোধনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, রপ্তানির বিষয়ে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন বা রিকনসিলিয়েশনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে। ফলে তিন প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি তথ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকবে না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নৌপুলিশ বোটে আগুন, গুরুতর আহত এক

দক্ষিণ আমেরিকায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

অস্থায়ী মেঘলা ঢাকার আকাশ, তাপমাত্রা কত?

আপনাদের উন্নয়নে-নিরাপত্তায় জীবন উৎসর্গ করতে চাই : শামা ওবায়েদ

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় 

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের রেকর্ড দাম, নতুন ইতিহাস

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল সফরে তারেক রহমান, জিয়ারত করবেন শাহ মখদুমের মাজার

২৯ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

১০

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১১

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় জবিতে বিক্ষোভ

১২

বিএনপির জয় নিশ্চিত বুঝেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে : আবদুস সালাম

১৩

ধানের শীষের বিজয় মানে গণতন্ত্রের বিজয় : অপর্ণা রায়

১৪

কিপারের হেডে রিয়ালের পতন

১৫

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

১৬

যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বিএনপির অঙ্গীকার : রবিউল

১৭

বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

১৮

বিশ্বকাপের আগে নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার 

১৯

দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি : মির্জা আব্বাস

২০
X