

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষ এবং ওই সময় মার্কিন হামলা থেকে ইরান ‘মূল্যবান শিক্ষা’ অর্জন করেছে। আরাঘচির দাবি, এসব অভিজ্ঞতা ইরানকে আরও দ্রুত, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হুমকি দেন। তিনি লেখেন, একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে এবং প্রয়োজনে ‘দ্রুত ও সহিংসভাবে’ অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে। এখনই চুক্তি করা দরকার। তবে তিনি আবারও দাবি করেন, আগের মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছিল।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতের হামলা ‘আরও ভয়াবহ’ হবে।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আদনান হায়াজনেহ বলেন, এটি মূলত ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের কৌশল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে চায়, যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার।
মন্তব্য করুন