কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামের ছোট সঞ্চয়ও আসছে ব্যাংকিং চ্যানেলে

এজেন্ট ব্যাংকিং
গ্রামের ছোট সঞ্চয়ও আসছে ব্যাংকিং চ্যানেলে

এক সময় ব্যাংকিং সেবা মানেই ছিল শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবন আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝক্কি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই ধারণা বদলে গেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা এখন পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে চলছে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন। এই নীরব অর্থনৈতিক বিপ্লবের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁনের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকিং মডেল। ১৯৮৬ সালে এই ব্যাংকেই কর্মজীবন শুরু করা ওমর ফারুক খান দীর্ঘ ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ একজন ব্যাংকার। সম্প্রতি তিনি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা, সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন কালবেলার সঙ্গে, যার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে এক অনন্য রূপান্তরের গল্প।

ওমর ফারুক খাঁনের মতে, ইসলামী ব্যাংকের জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা বর্তমানে একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করছে। একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপনের তুলনায় এজেন্ট আউটলেট পরিচালনার খরচ অনেক কম হওয়ায় খুব সহজেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাজারো এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সঞ্চয় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে, যা ব্যাংকের তহবিলের খরচ কমিয়ে এসএমই বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করছে। যারা আগে কখনো ব্যাংকিং সেবার আওতায় ছিলেন না, তাদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই সেবা ভবিষ্যতের বিশ্বস্ত গ্রাহক ভিত্তি তৈরি করছে। মূলত গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির প্রয়াসে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘কাস্টমার ইক্যুইজিশন’ স্ট্র্যাটেজি, যেখানে আজকের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীই ভবিষ্যতে বিনিয়োগের গ্রাহক হিসেবে ব্যাংকের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে। এই মডেলটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসার ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওমর ফারুক খান বলেন, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাভারের বিরুলিয়া থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু হয় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং। গ্রাহকদের সুবিধা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া এই পদক্ষেপ দেশের ব্যাংকিং খাতে এক দারুণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তিনি জানান, এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে, যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৌলিক ব্যাংকিং সেবা (যেমন টাকা জমা ও উত্তোলন, ফান্ড ট্রান্সফার, বিল প্রদানে, স্কুল, কলেজের বেতন পরিশোধ, রেমিট্যান্স সেবা ইত্যাদি) পৌঁছে দেওয়া এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। এটি মূলত ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসা এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য একটি প্রচেষ্টা, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়। এ ছাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক সুদমুক্ত লেনদেনের জন্য নিরাপদ ব্যাংকিং সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়াও আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে ওমর ফারুক খান বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিকল্প এই ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ইসলামী ব্যাংকের সেবা গ্রহণ করতে পারছে। মূলত ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতেই ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করা হয়। ব্যাংকের মতোই প্রায় সব সুবিধা পাওয়া যায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে। ফলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ব্যাংকিংয়ের এ ধারা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা শরিয়াহভিত্তিক আধুনিক ব্যাংকিং পরিষেবা বাড়ির কাছেই পাচ্ছে, যা তাদের সময়, খরচ ও ঝুঁকি কমায়।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক সেবা (যেমন-সেলফিন অ্যাপ, বায়োমেট্রিক), গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষজন সহজে ও নিরাপদে হাতের নাগালেই টাকা জমা ও উত্তোলন, রেমিট্যান্স গ্রহণ, বিল পরিশোধের মতো সেবা পাচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে এবং বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং দিন দিন জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

কভিড মহামারির সময় থেকে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে জানিয়ে ওমর ফারুক খান বলেন, এরই মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইসলামী ব্যাংক প্রায় ২ হাজার ৮০০টি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৪৭৭টি উপজেলায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। আস্থা অর্জন ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এই ইন্ডাস্ট্রিতে দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের আস্থা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যেহেতু আমাদের লক্ষ্য প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষকে ব্যাংকিং পরিষেবার আওতায় আনা, তাই আমরা সচেতনভাবে গ্রামীণ এলাকায় মনোযোগ দিচ্ছি। এ কারণেই আমাদের বেশিরভাগ এজেন্ট আউটলেট (৯৪ শতাংশ) প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত, যা এজেন্ট ব্যাংকিং খাতের গ্রামীণ ও শহর অনুপাতের (৮৬: ১৪) তুলনায় অনেক বেশি।

এজেন্ট ব্যাংকিং ইসলামী ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও নতুন গ্রাহক তৈরিতে কেমন ভূমিকা রাখছে—জানতে চাইলে ওমর ফারুক খান বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ এবং নতুন গ্রাহক তৈরিতে এজেন্ট ব্যাংকিং অভূতপূর্ব ও ফলপ্রসূ অবদান রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশব্যাপী এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু হওয়ার পর অল্প সময়েই ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি সৎ, দক্ষ, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বাছাই করে এজেন্ট নির্বাচন করে থাকে, যার ফলে লেনদেনে গ্রাহকদের আস্থা বাড়ছে।

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে কৃষক, নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু বিশেষ সেবা বা পণ্য রয়েছে জানিয়ে ওমর ফারুক খান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক, নারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে। কৃষকদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট ও ১০০ টাকা দিয়ে মুদারাবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ ক্রয়ে সহজ শর্তে বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি সংকট মেটাতে জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসা বিনিয়োগ (SBIS) এবং পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (RDS) মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। সরকারি কৃষি ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর টাকাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে তোলা যায়। মূলত শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমিয়ে এসব বিশেষায়িত সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।

মাঠপর্যায়ে এজেন্টদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে পরিচালিত মনিটরিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে ওমর ফারুক জানান, প্রতিটি আউটলেটকে একটি নিয়ন্ত্রণকারী শাখার প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক তাদের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি ও কঠোরভাবে সেবার মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট শাখার নির্দিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত আউটলেট পরিদর্শন করে লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং দাপ্তরিক নথিপত্র সরাসরি যাচাই করেন। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধান কার্যালয় অফসাইট সুপারভিশনের মাধ্যমে মনিটরিং সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যাংকের অডিট টিম আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে সেবার গুণগত মান এবং নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ করে।

এজেন্টদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে ব্যাংক নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইনও চালু আছে। মূলত প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং সরাসরি প্রশাসনিক নজরদারির সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে ওমর ফারুক খান বলেন, এজেন্ট আউটলেটে লেনদেন পদ্ধতি সহজ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। এখানে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপের (বায়োমেট্রিক পদ্ধতি) ব্যবহার করে লেনদেন করা হয়। প্রতিটি লেনদেন সম্পন্ন করতে গ্রাহকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে ওটিপি পাঠানো হয়। গ্রাহক কর্তৃক ওটিপি প্রদানের পর লেনদেন সম্পন্ন হলে ওই নম্বরে লেনদেনের বিবরণী সংবলিত এসএমএস পাঠানো হয়। তা ছাড়া বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে এজেন্ট কর্মকর্তাদের দুজনের অথরাইজেশন প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া ০৯১৭৫১৬২৫৯ নম্বরে গ্রাহক তার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর থেকে মিসড কল দিয়ে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স বিনা খরচে জানতে পারেন। এভাবে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিটি আউটলেটে পোস্টার প্রদর্শন করা থাকে এবং গ্রাহককে মৌখিকভাবেও সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রদর্শন করা হয়। গ্রাহক এবং এজেন্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ওমর ফারুক খান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ ও সৎ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ বজায় রাখা। এ ছাড়া প্রান্তিক গ্রাহকদের মাঝে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার অভাব এবং নগদ টাকার তাৎক্ষণিক সংকুলান (বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের এখনো শাখায় যেতে হয়) অনেক ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।

এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে নীতিমালার কোনো সংস্কার বা সহায়তার প্রয়োজন দেখেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আউটলেটে লেনদেনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এজেন্ট আউটলেটের লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি, এজেন্ট মালিকের মৃত্যু হলে ওই এজেন্ট আউটলেটের মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন প্রদানের ব্যবস্থা, এজেন্ট মালিক পলাতক ও নিখোঁজ হলে বিদ্যমান আউটলেট বাতিলের প্রভিশন রাখা, মালিক কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে গেলে এজেন্ট আউটলেট বাতিলের ধারা সংযোজনসহ সময়োপযোগী আরও সংশোধনী ধারা আনা যেতে পারে। এ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং খাতকে আরও গতিশীল করতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আউটলেটগুলো থেকে বীমা বা সরকারি ফি সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে এজেন্টদের আয়ের উৎস বাড়ানো জরুরি।

আগামী ৫ বছরে এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিকল্পনা সম্পর্কে ওমর ফারুক খান বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি হিসাব খোলা এবং ৬০ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব জনশক্তি নিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রাহকসেবার মানকে আরও উন্নত করে রেমিট্যান্স সেবাকে আরও গতিশীল করে প্রবাসী গ্রাহকসেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রাহক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিরাপদ শরিয়াহভিত্তিক লেনদেন আর হাজারো তরুণের স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে আমরা পৌঁছে গেছি আপনার দোরগোড়ায়। আধুনিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন টেকনোলজি ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই স্বচ্ছ ও ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই আমাদের শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণরা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে এজেন্ট আউটলেটের উদ্যোক্তা হয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদান রাখা এবং ব্যাংকের সম্মানিত অংশীদার হিসেবে গড়ে উঠুক। প্রান্তিক পর্যায়ে আমানত ও বিনিয়োগ সেবা পৌঁছে দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রতিটি জনপদকে লেনদেনের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দর্শন। আস্থা, নিরাপত্তা ও সততার এই সেতুবন্ধনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুপার সিক্সে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ যারা

শাবিপ্রবিতে ভর্তি শুরু ৩ ফেব্রুয়ারি

সরিষা ফুলের হলুদ মোহ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

একীভূত হচ্ছে সরকারের ৬ প্রতিষ্ঠান

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ইইউবি’র মামলা

বিশ্বকাপে না থাকা বাংলাদেশের প্রতি যে বার্তা দিল স্কটল্যান্ড

দেশে মাদক সেবনকারী ৮২ লাখ, প্রায় ৬১ লাখই গাঁজাখোর

চমক রেখে বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

একটি দল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে : দুলু

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদ গ্রেপ্তার

১০

ছবি তোলায় আদালত চত্বরে সাংবাদিকের ওপর হামলা বিআরটিএ’র কর্মকর্তার

১১

৫ শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ বৈঠক

১২

আগামীতে নারীদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে : জামায়াত

১৩

ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

১৪

ভোটের দিন ফজর নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন, ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবেন : কায়কোবাদ

১৫

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না’

১৬

সন্ত্রাসী হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত

১৭

বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি জোরালো হচ্ছে

১৮

সাফে ব্যর্থতার নেপথ্যে কি ইনতিশার!

১৯

নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই : জামায়াত আমির

২০
X