

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষক সিরাজুল হক তার ১৪ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ করেছেন। এরই মধ্যে তার জমি থেকে ফসল তোলা শুরু হয়েছে। অন্যান্য জাতের তুলনায় নতুন এই জাতের পেঁয়াজে ফলন ও দাম—দুই-ই ভালো পাওয়ায় দারুণ খুশি তিনি।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কন্দর্প মনোহারপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পেঁয়াজে ভরা নজর কাড়ার মতোই মনোমুগ্ধকর সিরাজুল হকের জমি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিরাজুল হক তার ১৪ শতক জমিতে নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তিনি বীজ ও সার পেয়েছিলেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে চাষ করায় ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম। এই জমি থেকে প্রায় ১৪ মণ পেঁয়াজ ঘরে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
কৃষক সিরাজুল হক বলেন, ‘কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় নতুন এই জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। এতে দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এই জাতের পেঁয়াজ আবাদ করব।’
স্থানীয় কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়নি। সিরাজুল ভাই প্রথম চাষ করে দেখালেন। ফলন দেখে আমরাও উৎসাহিত হয়েছি। আগামী বছর আমিও এই পেঁয়াজ আবাদ করব।’
উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার জানান, এই উপজেলায় একাধিক কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন নাসিক (ফিফটি-থ্রি) জাতের পেঁয়াজে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এনামুল কবির তুহিন বলেন, কৃষি বিভাগের বিনামূল্যে সরবরাহ করা বীজ ও সার ব্যবহার করে উৎপাদিত এই পেঁয়াজ অন্যান্য জাতের তুলনায় ফলন বেশি দিচ্ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে এই জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ ও আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাত চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তারাও ন্যায্য দামে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।’
মন্তব্য করুন