

নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সাত বছর মেয়াদি একটি নতুন ইসলামি বন্ড (সুকুক) ইস্যু করতে যাচ্ছে সরকার। এই বিনিয়োগ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইআরআইডিপিএনএফএল সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুকুক’। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে এরই মধ্যে এই সুকুকের যাবতীয় নিয়ম ও শর্তাবলি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সাত বছর মেয়াদি এই সুকুক কার্যকর হবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে, যা চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০৩৩ পর্যন্ত। এই সময়কালে বিনিয়োগকারীরা মোট ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয় করার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এতে বার্ষিক প্রায় ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব বা আল-ওয়াদিয়াহ হিসাবধারী ব্যাংকগুলো, অনুমোদিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই সুকুক নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। নিলামের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে। নিলাম শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং শেষ হবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। নিলাম শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ইমেইলের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্ত সুকুকের পরিমাণ জানিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এতে এসব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সুকুক ইস্যু সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই বন্ডও কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেবট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ইশতেকমাল হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারি বন্ড হওয়ায় এটি চালু করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তবে অন্যান্য বন্ডের মতো এটিও সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনযোগ্য হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত করপোরেট সুকুক বন্ড হলে বিএসইসির অনুমোদন লাগে। কিন্তু এটি সরকারি প্রকল্পের জন্য হওয়ায় সে বাধ্যবাধকতা নেই।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই উদ্যোগকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সাধারণত ‘ম্যাট্রেস মানি’ বা অলস টাকা এসব সুকুকের মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় প্রবেশ করে। এতে একদিকে অর্থনীতির চাকা সচল হবে, অন্যদিকে ব্যাংকের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমবে। সরকার যখন ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে সুকুকের মাধ্যমে উন্নয়ন করে, তখন সেটিকে ইতিবাচক ভাবেই দেখা উচিত।”
সুকুক কী? সুকুক হলো শরিয়াহভিত্তিক সুদবিহীন বন্ড। প্রচলিত বন্ডের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো মালিকানা ও মুনাফার ধরনে। প্রচলিত বন্ডে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সুদসহ চুক্তি হয়, যা শরিয়াহসম্মত নয়।
অন্যদিকে ইসলামি বন্ড ‘সুকুক’ এমন একটি বিনিয়োগ সনদ, যেখানে প্রকল্পভিত্তিক সম্পদের ওপর বিনিয়োগকারীর আংশিক মালিকানা থাকে এবং সেই সম্পদ থেকেই মুনাফার সুযোগ তৈরি হয়।
সাধারণত অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবেই সুকুক ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যয়যোগ্য অর্থ সংগ্রহের জন্য সুকুক ইস্যু করা হয় এবং সেই প্রকল্প থেকে বিনিয়োগকারীদের লাভ দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন