

শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) কর্মরত শ্রমিকরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ইনস্টিটিউটের ভেতরে মহাপরিচালক (ডিজি) কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শ্রমিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রফি উদ্দিন মৃধা, শ্রমিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মন্জুরুল আলম ও শ্রমিক নেতা হাসান উদ্দিন।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারিতে শ্রমিকরা বছরের পর বছর রোদে পুড়ে মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক শ্রমিক ১৫ থেকে ২০ এমনকি ৩০ বছর ধরে অনিয়মিত মাস্টার রোলে কাজ করছেন। মাসে মাত্র ২০ থেকে ২২ দিন হাজিরা দেখানো হয়, যার ফলে তারা নিয়মিত বেতন, স্থায়ী সুবিধা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত ও অনিয়মিত সব শ্রমিকের মাসে ৩০ দিনের হাজিরা নিশ্চিত করা, দীর্ঘদিন মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ, চাকরিরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারের যোগ্য সদস্যকে নিয়োগ প্রদান, অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি প্রদান এবং মজুরি বৈষম্য দূর করে কেন্দ্রীয় হারে বেতন নিশ্চিত করা।
আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শ্রমিক নেতা, বারি কর্তৃপক্ষ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে একাধিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পর ডিজি, প্রশাসন ও শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডিজি’র সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফ আকন্দ বলেন, শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ৩০ জানুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারি পরিদর্শনে আসবেন বলে জানানো হয়।
আলোচনা শেষে শ্রমিক নেতারা জানান, প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য করুন