বাংলাদেশের গ্রামীণ ও বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। এজন্য বাংলাদেশকে আরও নতুন প্রকল্প প্রস্তাব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দূর করার তাগিদও দিয়েছে জাইকা। ঢাকায় সফররত জাইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সংস্থার এক্সিকিউটিভ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ামাদা জুনিচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় এমআরটি, আড়াইহাজার এসইজেড প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতিতে সন্তোষ জানান প্রতিনিধিদলের প্রধান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে জাইকা। তারা চলমান বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেছে। বিশেষ করে আড়াইহাজার প্রকল্পের কাজ দেখে তারা সন্তুষ্ট। তাদের সম্পদ আছে, ইচ্ছাও আছে। তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জাইকা জানিয়েছে আমাদের প্রকল্প প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতায় তাদের মাঝেমধ্যে অসুবিধা হয়। একই ধরনের কাজ তাদের দেশে দ্রুত হয়ে যায়। তাদের মতো আমরা পারি না। তাদের বলেছি, আমাদের নিয়ম-কানুন আছে। এগুলো মানতে হয়। সংসদে জবাব দিতে হয়। তবে আমরা এর মধ্যেও প্রকল্পের কাজ দ্রুত করতে চেষ্টা করব।
জাইকা কোন ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নে আগ্রহী। তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্য খাতেও তাদের বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।
এম এ মান্নান বলেন, হলি আর্টিসানে নিহত জাপানি নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তারা এখানে এসেছে। আমিও তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এমন কলঙ্কজনক ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়ামাদা জুনিচি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় জাইকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দেশ বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় জাপান। গত কয়েক দিনে আমরা মাতারবাড়ী, চট্টগ্রামের আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে। আর এ ক্ষেত্রে জাইকা তথা জাপান সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। অবকাঠামো উন্নয়ন এ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে আরও সহায়তা করতে চায় জাইকা। মানবসম্পদের উন্নয়নও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
সুদহার নিয়ে জাইকার এ কর্মকর্তা বলেন, এ হার জাপান সরকারের সিদ্ধান্তে বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনায় সুদহার বাড়ানো হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সব দেশের জন্যই সুদহার বাড়িয়েছে জাইকা। আর এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায়।
মন্তব্য করুন