বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৫৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন

ট্রাম্পের লাগাম টানবে কে

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন
ট্রাম্পের লাগাম টানবে কে

২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল, নিজের প্রথম শাসনামলের ৯৯তম দিনে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের সঙ্গে আইন পাসের জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি একেবারে পুরোনো আর কঠিন এক ব্যবস্থা।’ এখন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প সেই ‘পুরোনো ব্যবস্থাকে’ দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এবার প্রথম ১০০ দিনেই ট্রাম্প দেখিয়ে দিয়েছেন—তিনি কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী ক্ষমতার জোরে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় শুল্ক বৃদ্ধি, প্রশাসনের ব্যাপক ছাঁটাই ও বিরোধীদের দমন-নীতির মাধ্যমে তিনি নিজের ক্ষমতার দৃশ্যমান ব্যবহার করছেন। উল্লেখযোগ্য কোনো আইন পাস হয়নি; তবুও বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিককালে কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম ১০০ দিন এতটা প্রভাববিস্তারকারী হয়নি।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এ স্বেচ্ছাচারী উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তাল লড়াই চলবে। আদালতগুলোয় একাধিক মামলা বিচারাধীন, যার নিষ্পত্তিতে মাসের পর মাস লেগে যাবে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও কিছু আইনি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে পারে। তবে এরই মধ্যে কিছু ফেডারেল জাজের আদেশকে অমান্য করার মতো উদ্বেগজনক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট কংগ্রেস

বর্তমান কংগ্রেস এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে যে, তারা নিজেদের সাংবিধানিক ক্ষমতাও রক্ষা করতে পারছে না। বহু বছর ধরে তারা বাণিজ্য, ফেডারেল সংস্থা ও যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমতা স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেছে। এখন রিপাবলিকান সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছেন না।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা—তিনি কংগ্রেস অনুমোদিত বাজেট বরাদ্দ অব্যবহৃত রেখে নিজস্ব নীতির পক্ষে ‘ইমপাউন্ড’ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা কংগ্রেসের অর্থ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

শেষ ভরসা সুপ্রিম কোর্ট

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের লাগাম টানার ভার পড়েছে আদালতের ওপর। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষক লি ড্রুটম্যান মনে করেন, ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের পথ খুঁজছেন। বিশেষ কোনো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যদি তার বিরুদ্ধে রায় দেন, ট্রাম্প সেই রায় উপেক্ষা করতে পারেন, যা সরাসরি সংবিধানের অবমাননা হবে।

আগামী মাসে সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা নিয়ে শুনানি করবেন। মার্কিন সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, ‘যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হবে।’ তাই এ মামলায় ট্রাম্পের জয়লাভের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

২০২৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকে থাকবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তাই এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের পক্ষে আত্মরক্ষা সম্ভব নয়। যদি ট্রাম্পের নীতির কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় ও জনগণের অসন্তোষ বাড়ে, তবেই পরিস্থিতি পাল্টানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত সংবিধান রক্ষার গুরুদায়িত্ব থাকবে প্রধান বিচারপতি রবার্টস ও তার সহকর্মীদের ওপর। কলমের শক্তি ও ক্ষমতার বিভাজনের প্রতি বিশ্বাস নিয়ে লড়ে যেতে হবে তাদের।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোগলটুলীর সেই আওয়ামী লীগ ‘বিক্রি হয়ে গেছে’: মাহফুজ আলম

ইরানে পুনরায় ফ্লাইট চালু করতে আগ্রহী লুফথানসা

রাতের আঁধারে বাংলাদেশে প্রবেশ, এলাকাবাসীর হাতে আটক ৪

করপোরেট রূপান্তরের নতুন যাত্রায় সুপার স্টার গ্রুপ

ফের সচল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

২০২৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন বিআরটিএ পরিচালকের

হত্যাচেষ্টা মামলায় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গ্রেপ্তার

নবনিযুক্ত উপাচার্যের কর্মযজ্ঞে শাবিপ্রবি

টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

১০

জামায়াতের অধিকাংশ এমপি জাফর ইকবালের মতো: রাশেদ খাঁন

১১

চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘চশমা সাইদ’কে গলা কেটে হত্যা

১২

প্রধান শিক্ষিকা চাঁদা চান-নিয়ে যান স্কুলের সম্পদ, অভিযোগ অন্য দুই শিক্ষিকার

১৩

ঘূর্ণিঝড়ে ঘর হারানো বৃদ্ধার বসবাস খোলা আকাশের নিচে 

১৪

সড়কের পাশে রক্তাক্ত বৃদ্ধকে ফেলার সময় মাইক্রোচালক আটক

১৫

কৃষক কবির হোসেনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী টুকুর

১৬

নতুন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ সামনে আনল উত্তর কোরিয়া

১৭

২ ম্যাচ শেষে নকআউটের পথে যেসব দল

১৮

এই সিনেটররা আমার কাজ কঠিন করে তুলেছেন: ট্রাম্প

১৯

জাপানের অভিজ্ঞতায় প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যাপক সংস্কার আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

২০
X