

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন এবং ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশে সরকার গঠিত টাস্কফোর্স কেন অবৈধ, অসৎ-উদ্দেশ্যপ্রসূত ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আদালত রুলের জবাব দাখিলের জন্য তিন সপ্তাহের সময় বেধে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ইউনানি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ.কে. মাহবুবুর রহমান এবং অন্য একজন এই বিষয়ে রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঔষধ প্রশাসন-১ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিবকে বিবাদী করা হয়।
এ কে মাহবুবুর রহমানের পক্ষে রিট পিটিশনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. জাগলুল হায়দার আহমেদ আফ্রিক এবং রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মোহাম্মদ আব্দুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা।
রুলে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারিকৃত ২৪.০৭.২০২৫ তারিখের স্মারকের মাধ্যমে গঠিত ১৮ সদস্যবিশিষ্ট টাস্কফোর্সে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না করায় ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ক্যাবিনেট ডিভিশন কর্তৃক জারিকৃত ১০.১১.২০২৪ তারিখের নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবাদীদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্ট আরও জানতে চেয়েছেন, উক্ত টাস্কফোর্সে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রতিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ, অসৎ-উদ্দেশ্যপ্রসূত ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না এবং কেন সংশ্লিষ্ট স্মারক ও তৎসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে আইনগত কার্যকারিতাবিহীন ঘোষণা করা হবে না।
এ ছাড়া রুলে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন প্রতিবাদীদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হবে না যে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক উক্ত টাস্কফোর্সে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞসহ সকল অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
মন্তব্য করুন