বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ০১:১২ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়া-পশ্চিমা যুদ্ধে পরিণত হয়েছে ইউক্রেন অভিযান

ক্রেমলিনের দাবি
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইউক্রেনে চলমান মস্কোর কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান কার্যত রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। গত রোববার আরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। খবর বিবিসি ও আল অ্যারাবিয়ার।

ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমাদের সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া মূলত এ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল দনবাসের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে। আমরা আমাদের লক্ষ্যের বেশির ভাগই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এই অভিযান এখন মূলত মস্কো ও সমন্বিত পশ্চিমাদের মধ্যে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

রুশ অঞ্চলে গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকলে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে বাফার জোনের বিস্তৃতিও বাড়বে। ইউক্রেনে পশ্চিমাদের পাঠানো অস্ত্রের পাল্লা ভারী হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই বাফার জোনও বিস্তৃত হবে। আর বাফার জোনের ভূখণ্ড থেকে আমরা ইউক্রেনীয়দের দূরে ঠেলে দিতে চাই। ইউক্রেন শুরু থেকেই নিজেদের অস্ত্র কম ব্যবহার করেছে। দেশটি ধীরে ধীরে পশ্চিমাদের দেওয়া অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সদস্যদের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে অভিযানের শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো সংঘাতের পক্ষে যাচ্ছে। তারা ইউরোপের পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ এবং অপ্রত্যাশিত করে তোলে। তাদের এ ধরনের আচরণের কারণে দনবাসের জনগণের এবং রুশ ফেডারেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউক্রেনে অভিযান চালানোর জন্য মস্কো অনুপ্রাণিত হয়। সত্যি বলতে, দনবাসের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই মস্কো ইউক্রেনে অভিযান চালায়। কিন্তু এটি বর্তমানে মস্কো এবং পশ্চিমাদের যৌথ যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে এ যুদ্ধে পরোক্ষভাবে জড়িয় পড়ে পশ্চিমা দেশগুলো।

ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা রাশিয়ার : ইউক্রেনের খেরসনে বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কিন্তু রাশিয়া তাদের কাছে জাতিসংঘকে পৌঁছাতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি খেরসনের কাখোভকা বাঁধে বিস্ফোরণ হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এতে ইউক্রেনের বহু মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, একইভাবে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের বহু এলাকাও প্লাবিত হয়। গত রোববার জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে, ওই অঞ্চলগুলোতে তারা ত্রাণ পাঠানোর চেষ্টা করলেও রাশিয়ার বাধার কারণে তারা ঢুকতে পারছে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের কর্মকর্তা ডেনিস ব্রাউন বলেন, আমরা একাধিকবার এ নিয়ে রুশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা ওই অঞ্চলে আমাদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছে না। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। কারণ ওই অঞ্চলের মানুষের ত্রাণ এবং সাহায্যের প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, খেরসন অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে নাইপার নদীর ওপর বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। বাঁধে বিস্ফোরণের ফলে নদীর দুই পাড়ই ভেসে গেছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন দুই পক্ষই বাঁধ ভাঙার জন্য একে অন্যকে দায়ী করছে। তবে জাতিসংঘের বক্তব্য, সম্ভবত রাশিয়াই ওই বাঁধের কাছে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেটের দুই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

শাকিব খানের শিডিউলে নেই রায়হান রাফি

উপদেষ্টা পরিষদে ১১ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও নীতি অনুমোদন

নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের যাত্রা শুরু

ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ : লুৎফুজ্জামান বাবর

অবসরে গেলেন মার্কিন মহাকাশচারী সুনিতা

মোসাব্বির হত্যা / জবানবন্দিতে অস্বীকৃতি, কারাগারে বিল্লাল

১২ ঘণ্টা পর রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল শুরু

কাকে ভোট দেওয়া উচিত, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

দুবাইয়ে তুষারপাতের ছবি শেয়ার করলেন ক্রাউন প্রিন্স

১০

বাংলাদেশকে এবার বড় লজ্জা দিল পাকিস্তান

১১

দুদকের মামলায় আবেদ আলী কারাগারে

১২

বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন রুমিন ফারহানা

১৩

ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রিপন রিমান্ডে 

১৪

হাদি হত্যার আসামি রুবেল ৬ দিনের রিমান্ডে

১৫

মাইক ব্যবহারে সময় বেঁধে দিল ইসি

১৬

ক্ষমতায় গেলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বিএনপি : তারেক রহমান

১৭

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্স নিয়ে হাইকোর্টের রুল

১৮

পাতা না ঠোঁট কোনটি আগে দেখলেন, উত্তর মিলিয়ে জেনে নিন আপনার ব্যক্তিত্ব

১৯

চোখের নিচের কালো দাগ কখন ভয়াবহ রোগের লক্ষণ? যা বলছে গবেষণা

২০
X