বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নেমে ছিল। বিএনপি সরকার তার বিচার করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দু-একটি ছাড়া আর কোনো ঘটনার বিচার হয়নি।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্তিত্বের লড়াইয়ে আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হই’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিল ঐক্য পরিষদের উত্থাপিত জাতীয় ঐকমত্যের সাত দফার মধ্যে পাঁচ দফা বাস্তবায়ন করবে। নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা ছিল সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করা হবে, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ফাউন্ডেশন গঠন করা হবে, সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করা হবে, বর্ণবৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাস্তবায়ন করা হবে; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাড়ে চার বছরে এর একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশের উদ্বোধন করেন ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জহর লাল ভৌমিক, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, উত্তম চক্রবর্তী, সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, নিতাই প্রসাদ ঘোষ ও গৌতম মজুমদার।
শংকর মজুমদারের সভাপতিত্বে ও অ্যাডভোকেট মিলন মণ্ডলের সঞ্চালনায় ওই সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনীন্দ্র কুমার নাথ, রমেন মণ্ডল, শ্যামল পালিত, শৈবাল কান্তি সাহা, স্বপন চন্দ্ৰ নাথ, শিমুল সাহা প্রমুখ।
মন্তব্য করুন