

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবেন। এরই মধ্যে তপশিল ঘোষণা সংক্রান্ত টেলিভিশন ও বেতারে ভাষণের রেকর্ডিংও সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী এদিন দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন ও তপশিলের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করে এ এম এম নাসির উদ্দীন নেতৃত্বাধীন কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানার গেজেট প্রকাশ না করে ৩০০ আসনে তপশিল ঘোষণা করতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে গতকাল আপিল বিভাগ বাগেরহাটের সংসদীয় আসন একটি কমিয়ে আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন। ফলে আজ তপশিল ঘোষণা করতে হলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানার গেজেট প্রকাশ করতে হবে। না হলে বাগেরহাট ও গাজীপুর জেলার আসনগুলো বাদ রেখে ২৯১টি আসনে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করতে হবে।
সূত্র আরও জানায়, কমিশনের এ বিষয়ে রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে। তবে কমিশন বর্তমান পরিস্থিতিতে আর রিভিউ করে কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না। কমিশন মনে করছে, এটা ইসির পক্ষেও যাবে না। তাই ইসি আদালতের রায় মেনে নিয়েছে। সেজন্য আজ তপশিল ঘোষণার আগেই আদালতের আদেশ ইসিতে চলে আসবে এবং তপশিল ঘোষণার আগে দ্রুতই গেজেট প্রকাশ করা হবে।
যদিও গতকাল নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সীমানা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা এখনো আদালতের রায় হাতে পাইনি। সেজন্য আপাতত ৩০০ সংসদীয় আসনেই তপশিল ঘোষণা করা হবে।’
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করে। এতে ১৬ জেলার ৪৬টি সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে বাগেরহাটে আসন সংখ্যা ৪টি থেকে কমিয়ে ৩টি করা হয় এবং গাজীপুরে আসন সংখ্যা ৫টি থেকে একটি বাড়িয়ে ৬টি করা হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পর এখন নির্বাচন কমিশনকে বাগেরহাটে আবার ৪টি আসন এবং গাজীপুরে ৫টি আসন পুনর্বহাল করতে হবে।
আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের এই অংশ ছাড়া নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে কমিশন। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব মো. আখতার আহমেদ।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা বিস্তারিতভাবে অবহিত করার পর রাষ্ট্রপতি সামগ্রিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়েছে। এখন ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এ সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রপতি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতিকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার (ওসিভি) এবং দেশের ভেতরে ডাকযোগে ভোট (আইসিপিভি) চালুর প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয় বলেও জানান ইসি সচিব।
এ ছাড়া একই দিনে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দুটি আলাদা ব্যালট পেপার ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এবং তার আগের দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তুলে ধরেন সিইসি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এবারের নির্বাচনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বরাবরের মতো সাদা রঙের ব্যালট পেপার এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হবে।
মন্তব্য করুন