

ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সফল হতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে এবং মেধাবীদের জন্য বিশ্বব্যাপী সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত। প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে প্রোগ্রামিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার মাধ্যমে যে সম্ভাবনার পরিচয় দিয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রোগ্রামিং এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।’ এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। তাই প্রশ্ন করতে শেখো, পর্যবেক্ষণ করতে শেখো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শেখো এবং ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবনের সাহস অর্জন করো।’
এই জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা এবং বিশ্বমানের সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) বাস্তবায়নে আয়োজিত জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬- এ বছর প্রতিযোগিতায় কুইজ ও প্রোগ্রামিং মিলিয়ে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৭ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে প্রোগ্রামিং ও কুইজ বিভাগে মোট ৮৩২ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করেছে।
জাতীয় পর্যায়ে প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা বিভাগের বিভিন্ন গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানসহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, বিচারক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।