হাসানুল হক ইনু
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:২০ এএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:১০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সাক্ষাৎকার

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধ হয়নি

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধ হয়নি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো পর্যায়েই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো বিরোধ হয়নি বলে জানিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কালবেলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আদর্শিক অবস্থান থেকে ২৩ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল। তার অনেক এরই মধ্যে অর্জিত হয়েছে। বাকি বিষয়গুলোতে আওয়ামী লীগ পদক্ষেপ নিলে শরিকদের সন্তুষ্টি আরও বাড়বে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ না নেওয়া সরকারের সঠিক পদক্ষেপ ছিল জানিয়ে জাসদ সভাপতি বলেন, উগ্রবাদী, সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী শক্তির সঙ্গে সংলাপ কখনো সফল হয় না।

হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, সরকার উৎখাতের অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের সামনে এটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

সাক্ষাৎকারে তিনি নতুন সরকারের করণীয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের এবং জাসদের অবস্থান তুলে ধরেন।

কালবেলা: সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে জাসদের ফল আশানুরূপ হয়নি। আসন বণ্টন, জোটের প্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা এবং সার্বিক ফলের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বেড়েছে কি না? ভোটের পর জোটে এর প্রভাব কী হতে পারে?

হাসানুল হক ইনু: নির্বাচন তো শেষ। নির্বাচন নিয়ে আগেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধ হয়নি। নির্বাচনের পরও হবে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলের শরিকদের কোনো সংকট আমি দেখছি না।

কালবেলা: তাহলে আওয়ামী লীগের ভূমিকায় আপনারা সন্তুষ্ট? ১৪ দলের এই সন্তুষ্টির ভিত্তি আসলে কোথায়?

হাসানুল হক ইনু: ১৪ দল শুধু নির্বাচন কেন্দ্র করে গঠিত হয়নি। এটি একটি আদর্শিক জোট। ২৩ দফার ভিত্তিতে এই জোট গঠন হয়েছিল। ১৪ দলের ঘোষণাপত্রে সেগুলো স্পষ্ট করা হয়েছিল। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগ যদি সব দফা রাজনৈতিকভাবে বাস্তবায়ন করে, তাহলেই শরিকরা সন্তুষ্ট থাকবে। এর মধ্যে ২৩ দফার অনেকগুলো অর্জিত হয়েছে। অর্জন না হওয়া বিষয়ে আওয়ামী লীগ পদক্ষেপ নিলে শরিকদের সন্তুষ্টি আরও বাড়বে।

কালবেলা: বিএনপিসহ অনেক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাদের নির্বাচনে আনতে সরকার কোনো সংলাপের উদ্যোগও নেয়নি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কী হতে পারে বলে মনে করেন?

হাসানুল হক ইনু: রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সরকারের সংলাপ না করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী শক্তির সঙ্গে সংলাপ কখনো সফল হয় না। উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী শক্তির সঙ্গে সংলাপ করেও লাভ হতো না।

কালবেলা: কিন্তু একটি বড় দলকে বাইরে রেখে ৭ জানুয়ারি যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে গ্রহণ করবে বলে আপনি মনে করেন?

হাসানুল হক ইনু: নির্বাচন শেষ। আর কিছু হবে বলে মনে হয় না। আশা করি, সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কালবেলা: কিন্তু নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা সরকারের ওপর যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা কাটিয়ে ওঠা কতটা সম্ভব হবে বলে মনে করেন?

হাসানুল হক ইনু: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছুটা চাপের মুখে শেখ হাসিনা কূটনীতি পরিচালনা করছেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সঙ্গে মৌলিক কোনো বিষয়ে বাংলাদেশের বিরোধপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়নি। আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে কিছুটা মনোমালিন্য কাটিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। এই দেশগুলোর সঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠতা স্থাপন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

কালবেলা: নির্বাচনের আগে নানা রকম নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার কথা শোনা গেছে। সেই আশঙ্কা কি কেটে গেছে?

হাসানুল হক ইনু: দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে কোনোরকম নিষেধাজ্ঞা আসবে বলে আমি মনে করি না। আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

পশ্চিমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার আর নির্বাচন ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই। এসব দেশ বাংলাদেশে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনে সরকারকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হবে। নির্বাচনের আগে আমেরিকাসহ পশ্চিমাদের অনেক উচ্চকণ্ঠ ছিল। তপশিলের পর তারা আগের অবস্থান থেকে সরে আসে। সরকার গঠনের পর সবাই বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করা, সহযোগিতা বাড়ানো ও সম্পর্ক উন্নত করার অঙ্গীকার করেছে। নতুন সরকারের সঙ্গে প্রভাবশালী দেশগুলোর সম্পর্ক আস্তে আস্তে আরও উন্নত হবে।

কালবেলা: আপনার দৃষ্টিতে নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী?

হাসানুল হক ইনু: এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হলো, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা। বাজার সিন্ডিকেটের কলঙ্কজনক দৌরাত্ম্য থেকে বেরিয়ে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা। দুই নম্বর চ্যালেঞ্জ হলো, মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ৬-এর নিচে নিয়ে আসা। ব্যাংকিং ও অর্থনীতিতে লুটপাট, দুর্নীতি ও সব রকম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কূটনৈতিক। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জায়গায় ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক সুনিশ্চিত করা। কারও সঙ্গেই সম্পর্কে যেন ঝাপটা না লাগে, সেজন্য বাস্তববাদী কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে।

আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, রাজনীতির বিষফোড়া হিসেবে পরিচিত বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্তের রাজনীতি থেকে দেশকে স্থায়ীভাবে কীভাবে বের করে আনা যায় এ নিয়ে ভাবতে হবে। এই দুই দলের নির্বাচন, আইন ও সরকার উৎখাতের অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। বিএনপি-জামায়াত হয় রাজনীতি ছাড়বে, নয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেবে। এর মাঝামাঝি কোনো অবস্থান থাকার সুযোগ নেই। তারা অস্বাভাবিক সরকার, নির্বাচন বানচাল ও মীমাংসিত ইস্যুতে চক্রান্তের জন্য দায়ী। এজন্য এই দুই দলের রাজনীতি করা না করার বিষয়ে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

কালবেলা: আপনি নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখাকে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরই মধ্যে নতুন সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হতে পারবেন বলে মনে করেন কি না?

হাসানুল হক ইনু: মাত্র তো মন্ত্রীরা দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের সময় দিতে হবে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিতে হবে বহুমাত্রিক উদ্যোগ। দীর্ঘ সময় পরে হলেও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সংকট, সমস্যা স্বীকার করেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। রমজান আসন্ন। এ সময় বাজার পরিস্থিতি দেখি। তারপর কথা বলব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোসল করতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল ২ বোনের

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, ইব্রাহিমোভিচের মতে বিশ্বকাপ জিততে পারে যে দল

বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘একশো’ -এর যাত্রা শুরু

বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

হিজাব ছাড়া গান, ইরানি গায়িকাকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ

নজরুলের গানে মুখর বারহাট্টা, ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ শতবর্ষে দিনব্যাপী কর্মশালা

শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতি অবমাননার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ

লিবিয়া উপকূলে ভেসে এলো ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

ফরিদপুরে জিয়াউর রহমানের খনন করা খালে বাঁধ, বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক

বাবা দিবসের বিশেষ নাটক ‘বাবার ডায়েরি’

১০

ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে করা যাবে যেসব কাজ

১১

বিয়ের ৬ মাস পার না হতেই লাশ হয়ে ফিরলেন কাজল রেখা

১২

ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন বাস্তবতা নিয়ে ‘১২তম ডিজিটাল সামিট’ অনুষ্ঠিত

১৩

গৃহকর্মীকে হত্যা, স্ত্রীসহ পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রিমান্ডে

১৪

বিশ্বকাপের মাঝে অবসর ভেঙে ফিরলেন রোনালদিনহো

১৫

‘এই লড়াইয়ে যদি আপনাদের পতন হয়, আমাদের কিছু করার থাকবে না’

১৬

জুলাই-আগস্টের বিচারে ধীরগতি, আলামত নষ্ট হতে পারে : শিশির মনির

১৭

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান 

১৮

বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের জোড়া গোল দেখে কাঁদলেন মা

১৯

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে মাটি লুট, সমাধানে ‘বৃষ্টির অপেক্ষায়’ ইউএনও!

২০
X