ফোকাস ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সংঘাত যেভাবে শুরু হয়েছিল ইয়েমেনে

সংঘাত যেভাবে শুরু হয়েছিল ইয়েমেনে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা ব্যাপক। দেশটিতে ২০১১ সালে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা আজও চলছে। এর ফলে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে পড়েছে। এ গৃহযুদ্ধে পৌনে চার লাখ ইয়েমেনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আড়াই লাখ মানুষ সরাসরি সংঘাতে মারা গেছেন। অন্যদের ক্ষুধা ও রোগে মৃত্যু হয়েছে। এ যুদ্ধ দেশটির অবকাঠামো ও জনসেবাকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। আসলে এ সংঘাত কেন শুরু হয়েছিল, প্রভাবশালী পক্ষ হুতিরা কীভাবে শক্তিশালী হলো, এ প্রতিবেদনে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানব।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ কীভাবে শুরু হলো, তা জানতে হলে প্রথমে হুতিদের সম্পর্কে জানতে হবে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী দেশটিতে আনসারুল্লাহ নামেও পরিচিত। তাদের উত্থান নব্বই দশকে। তাদের নেতা হুসেইন আল-হুতি শিয়া ইসলামের জাইদি ধারার অনুসরণে ধর্মীয় পুনর্জাগরণমূলক আন্দোলন শুরু করেন।

হুতিরা যেভাবে ক্ষমতায়: ১৯৯০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন একত্রিত হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আলি আবদুল্লাহ সালেহ। তিনি প্রথমদিকে হুতিদের সমর্থন করতেন। তবে আন্দোলনটি জনপ্রিয় ও শাসকবিরোধী হয়ে উঠতে থাকায় তা সালেহের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন দেন সালেহ, যদিও ইয়েমেনের অধিকাংশ জনগণ ছিল এর বিরুদ্ধে। এ সুযোগে বিক্ষোভ করেন হুতিরা।

ইয়েমেনি সেনারা ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে আল-হুতিকে হত্যা করে, তবে আন্দোলনটির মৃত্যু হয়নি। হুতিদের সামরিক শাখায় ইয়েমেনি তরুণরা দলে দলে যোগদান করে। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’র ঝড় নাড়িয়ে দেয় ইয়েমেনকেও। হুতিরা দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সাআদা দখলে নিয়ে সালেহর শাসনের অবসানের দাবি করে।

যেভাবে শুরু গৃহযুদ্ধ: ২০১১ সালে সালেহ উপরাষ্ট্রপতি আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হন, তবে সে সময় তার সরকারের আর তেমন জনপ্রিয়তা ছিল না। স্থিতিশীলতার স্বার্থে মীমাংসা অনুযায়ী সালেহ হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০১৪ সালে রাজধানী সানার বিভিন্ন অংশ দখলে নেয় হুতিরা। পরের বছরের শুরুতে তারা রাষ্ট্রপতির বাসভবনও দখল করে নেয়।

হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার অনুরোধে ২০১৫ সালের মার্চে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে সৌদি আরব। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরান পাশের দেশে হাত বাড়াচ্ছে—এ আশঙ্কায় রিয়াদের নেতৃত্বে সাতটি সুন্নি আরব দেশ হুতিদের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। অস্ত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাদের সমর্থন জোগায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। কয়েক বছর ধরে এ যুদ্ধ চলে।

অবশেষে ২০২২ সালে এসে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ছয় মাস পর সেই চুক্তি ভেঙে গেলেও তারা আগের মতো আর তুমুল যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে গৃহযুদ্ধ থামেনি।

জাতিসংঘ জানায়, ইয়েমেন যুদ্ধ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে হুতিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জায়গা থেকে তাদের দখল ছেড়ে দিয়েছে। তারা সৌদি আরবের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তিতে যেতে চাইছে, যাতে করে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ও তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরাকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এখন সিরিয়া সীমান্ত

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় আজ

ইরানকে হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

‘কিছু বুঝার আগেই দেখি সবাই খালের পানিতে’

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

১২ ঘণ্টা পর শাবিপ্রবি উপাচার্য মুক্ত 

আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন বিএনপির আরও এক প্রার্থী

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

২০ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১০

জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ দুই বাহিনীর হাতে, ঢুকতে লাগে অনুমতি!

১১

ঘোষণা দিয়েও ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আসন ছাড়েনি জামায়াত

১২

সব রেকর্ড ভেঙে দেশে স্বর্ণের দামে ইতিহাস

১৩

দুই দেশ থেকে ফেরত এলো ৫৬০০ পোস্টাল ব্যালট

১৪

বাবা হতে চলেছেন সৌম্য সরকার

১৫

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের সম্মানে যে ২ আসন ছাড়ল ইসলামী আন্দোলন

১৬

শুধু পড়াশোনার চাপ নয়, শিশুদের আগ্রহের বিষয়টিতে উৎসাহ দেওয়া জরুরি

১৭

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই যেভাবে মিলবে ৪ দিনের ছুটি

১৮

আমার কর্মীদের ভয়ভীতি দেওয়া হচ্ছে : মহিউদ্দিন আহমেদ

১৯

আলিফ হত্যা মামলা / নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন চিন্ময় ব্রহ্মচারী

২০
X