কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশেষ সাক্ষাৎকার

১০ লাখ আইটি প্রফেশনাল তৈরির মহাপরিকল্পনা

১০ লাখ আইটি প্রফেশনাল তৈরির মহাপরিকল্পনা

অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষাবিদ। তিনি দলটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। বিএনপির ডিজিটাল উইং ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো দেখভাল করেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এ ছাড়া একজন সক্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেও পরিচিত। লেখাপড়া করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের সামগ্রিক প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যমান স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন, বিরাটসংখ্যক আইসিটি গ্র্যাজুয়েটদের বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য দক্ষ ও উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয় প্রসঙ্গে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি

বাংলাদেশ প্রতি বছর হাজার হাজার আইসিটি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে। তবুও বৈশ্বিক আইটি কোম্পানিগুলো প্রায়ই বলে যে, গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির উপযোগী দক্ষতার অভাব রয়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে বিএনপি সরকার কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেসরকারি আইটি খাতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: বিএনপির ‘নবজাগরিত বাংলাদেশ: আগামীর প্রযুক্তি দশক” নীতি অনুযায়ী এআই ও ডাটা, সাইবার সিকিউরিটি এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ক্ষেত্র যেমন বিপিও, সেমিকন্ডাক্টর ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০+ বিষয়ে বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এসব টাস্কফোর্সের মূল দায়িত্ব হবে ইন্ডাস্ট্রি (শিল্প), একাডেমিয়া এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের জন্য সুপারিশ প্রদান করা এবং বৈশ্বিক ট্রেন্ড ও প্রযুক্তির দিকনির্দেশনা চিহ্নিত করা। এ ছাড়া এসব টাস্কফোর্স সরবরাহ ও চাহিদা, উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্টের বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা একটি টেকসই ও স্কেলযোগ্য ট্যালেন্ট পাইপলাইন তৈরি করতে পারব, যা সরাসরি আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। পাশাপাশি একাডেমিয়া, ইন্ডাস্ট্রি ও সরকারের ট্রাইপার্টি প্ল্যাটফর্ম (টিপিপি) গঠন করে দেশে ১০ লাখ আইটি প্রফেশনাল তৈরির মহাপরিকল্পনা করছে বিএনপি।

বিএনপি কি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইন্টার্নশিপ, যৌথ কারিকুলাম ডিজাইন বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট রিকোয়ারমেন্টের মতো বাধ্যতামূলক ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রবর্তন করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: আমরা যৌথভাবে পাঠ্যক্রম ডিজাইন করার উদ্যোগ নিতে চাই। এ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপোজার বা ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ক্রেডিট দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করতে আগ্রহী। তবে কোনো ‘সবার জন্য একই’ ধরনের সমাধান সব ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে ইন্টার্নশিপ করতে আগ্রহী একজন শিক্ষার্থী সবসময় উপযুক্ত সুযোগ নাও পেতে পারেন। কারণ, এটি একটি তুলনামূলকভাবে বিশেষায়িত সেক্টর। আমাদের লক্ষ্য হবে কোম্পানিগুলো বাস্তবে কী কী সুযোগ দিতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী ধরনের দক্ষতা ও ট্যালেন্ট তৈরি করতে পারে—এ দুয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা। ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামগুলো ইন্টার্ন এবং কোম্পানি, উভয়ের জন্যই শেখার এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতার সুযোগ হওয়া উচিত। আমরা কোনো পক্ষকে অযৌক্তিক চাপের মধ্যে ফেলতে চাই না। এমন কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে চাই না, যা বাস্তবে কার্যকর বা বাস্তবসম্মত নয়।

বিশ্বের অনেক প্রযুক্তিকেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও গবেষণা থেকে গড়ে ওঠে। গবেষণা বাণিজ্যিকীকরণ, প্যাটেন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্টার্টআপকে উৎসাহিত করতে বিএনপি কী নীতিমালা গ্রহণ করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্ভাবন, গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ এবং স্টার্টআপগুলোর সহায়তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম কার্যত ভঙ্গুর এবং অকার্যকর অবস্থায় আছে। আমরা এটুআই এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করব এবং একটি একীভূত জাতীয় ইনোভেশন ও স্টার্টআপ ‘আমব্রেলা’ কাঠামো তৈরি করব। এ কাঠামো বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগ গ্রহীতার সঙ্গে, গবেষককে গবেষণায় অর্থায়নকারীর সঙ্গে এবং উদ্ভাবককে কোম্পানি বা স্টার্টআপের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করব যাতে তারা উদ্ভাবক, গবেষক এবং তাদের উদ্ভাবনকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেয়, পুরস্কৃত করে এবং উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে তাদের জন্য একটি স্পষ্ট পথ তৈরি করা হবে, যেন তারা সহজেই জাতীয় ইনোভেশন ও স্টার্টআপ আমব্রেলা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং সেখানে থাকা সুযোগ, সহায়তা ও অংশীদারত্বের সুবিধা নিতে পারে।

যেসব বেসরকারি কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব, গবেষণা কেন্দ্র এবং যৌথ উদ্ভাবন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে, তাদের কি বিএনপি কর সুবিধা, অনুদান বা সমপরিমাণ তহবিল (matching funds) প্রদান করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: আমরা কয়েকদিন আগেই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে এমন কোনো কার্যকর ইকোসিস্টেম নেই, যেখানে স্থানীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে জানতে পারেন যে, বিভিন্ন খাতে স্টার্টআপগুলো কী করছে, তাদের অগ্রগতি কোথায় এবং কারা বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আমরা প্রথমে সে ইকোসিস্টেমটি তৈরি করব। এ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সচেতনভাবে এগিয়ে এসে এসব উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা। যদি এতে সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা সেটিও বিবেচনা করব। তবে কোনো ধরনের সার্বজনীন বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ অনুদান বা কর সুবিধা দেওয়া হবে না। বরং বিনিয়োগকারী এবং বিনিয়োগগ্রহীতার বাস্তব প্রয়োজন, ঝুঁকি, সক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একটি বিষয় আমরা সব ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন করব। যে কোনো ধরনের সহায়তা ধাপে ধাপে দেওয়া হবে এবং কি-পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর, যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসব মাপকাঠির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো সফলভাবে শিল্প-অর্থায়িত দক্ষতা একাডেমি এবং প্রযুক্তি ক্লাস্টার ব্যবহার করে। বিএনপি কি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাই-টেক পার্কের সঙ্গে যুক্ত অনুরূপ খাতভিত্তিক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: আমাদের পরিকল্পনা হলো ভেঙে পড়া প্রযুক্তি অবকাঠামো ও বিদ্যমান স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন করা এবং অপচয় যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে অডিট ও মূল্যায়ন করা হবে যাতে বোঝা যায় কোনটি বাস্তবসম্মত এবং কোনটি নয়। আমরা অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র বা নতুন নতুন স্তর তৈরি করতে চাই না। বরং প্রয়োজন একটি চটপটে ও কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন প্রযুক্তি ক্লাস্টারের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত স্কেল করা যাবে। এখানে কোনো ‘সবার জন্য একই’ ধরনের সমাধান নেই। তাই প্রযুক্তি ক্লাস্টার গঠনের ক্ষেত্রে আমরা সিদ্ধান্ত নেব তথ্যভিত্তিকভাবে, কোম্পানিগুলোর বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী এবং শেষ পর্যন্ত তাদের কাঙ্ক্ষিত বাজারকে সামনে রেখে।

ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ এবং এসএমইরা (SME) যাতে শুধু বড় করপোরেশনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা, গবেষণা সুবিধা এবং ইনকিউবেশন সাপোর্ট পায়, তা বিএনপি কীভাবে নিশ্চিত করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা, গবেষণা সুবিধা এবং ইনকিউবেশন সহায়তা কোনোভাবেই রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বা দলীয় ঘনিষ্ঠদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা যে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়তে যাচ্ছি, তা সব উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আন্তর্জাতিক মানের ইনকিউবেশন হাবগুলো যে ধরনের যাচাই-বাছাই এবং মানসম্মত যোগ্যতা নির্ধারণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, সে ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ধারণা নির্বাচিত হলে বিএনপি সরকার ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ বা এসএমইদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। ধারণা তৈরির পর্যায় থেকে শুরু করে বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আমরা তাদের পাশে থাকব।

একাডেমিক উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক আইটি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে বিএনপি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর এবং করপোরেট ফান্ডের কী ভূমিকা নির্ধারণ করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে, iDEA, a2i, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডসহ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো দুঃখজনকভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই আলাদাভাবে কাজ করছে। গত ১৭ বছরে একটি ইউনিকর্নও তৈরি করতে পারেনি। আমরা একটি ইনোভেশন হাব নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করব, যেখানে স্টার্টআপ ও গবেষকরা একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন। একইসঙ্গে a2i-কে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি বাস্তব ও কার্যকর অ্যাকসেলারেটরে রূপান্তর করা হবে। এটি পিপিপি মডেল, জয়েন্ট ভেঞ্চার, অথবা বাস্তবসম্মত অন্য কোনো উপযুক্ত মডেলের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আন্তর্জাতিক কয়েকটি অ্যাকসেলারেটরের সঙ্গে আমার একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের শক্তিশালী ফ্রিল্যান্সিং ভিত্তি থাকলেও উচ্চ মূল্যের (high-value) রপ্তানি সীমিত। নিম্নস্তরের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উচ্চ মূল্যের আইটি এবং সফটওয়্যার রপ্তানিতে পৌঁছাতে বিএনপি কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্ল্যাটফর্ম এবং বৈশ্বিক ক্লায়েন্টদের মধ্যে সমন্বয় করবে?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: আমাদের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক উচ্চ মূল্যের এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার এবং বড় পরিসরের সল্যুশন ক্ষেত্রে প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আরও সতর্ক ও কৌশলী হতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় যদি আমাদের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি সহায়তা প্রয়োজন হয়, আমরা অবশ্যই সেটি বিবেচনা করব। তবে সরকার নিজে এ প্রক্রিয়াকে সরাসরি চালাবে না। আমাদের আইসিটি নীতিমালা অনুযায়ী আমরা বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন করব। এসব টাস্কফোর্স বৈশ্বিক ট্রেন্ড, বাজারের প্রয়োজন এবং দেশের স্থানীয় সক্ষমতা চিহ্নিত করবে। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের বিষয়ে সুপারিশ দেবে এবং আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ট্যালেন্ট ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

বিএনপি যদি ২০২৬ সালে ক্ষমতায় আসে, তবে আইটি খাতে শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার সাফল্য বিচার করতে কী ধরনের পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা (রপ্তানি, চাকরি, বৈশ্বিক চুক্তি, স্টার্টআপ সৃষ্টি) নির্ধারণ করবেন?

অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান: আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অবদান নির্ধারণে একটি সামগ্রিক (হোলিস্টিক) দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছি। বিশ্ব এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমন্বিত ও পরস্পর-সংযুক্ত। এ সমন্বিত পরিবেশে কর্মসংস্থানকে কোনো একটা শ্রেণিতে ভাগ করে পরিমাপ করা বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের লক্ষ্য প্রথম মেয়াদে জিডিপিতে ২ থেকে ৫ শতাংশ অবদান নিশ্চিত করা, পাশাপাশি সরাসরি ২ লাখ আইসিটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমরা যদি এ প্রভাবগুলো বাস্তবায়নে সফল হতে পারি, তাহলে এর ফলে পরোক্ষভাবে আরও ২ থেকে ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সিলিন্ডারের দাম কত চান ব্যবসায়ীরা?

যুক্তরাষ্ট্রে খালেদা জিয়ার নামে সড়ক

গোপালগঞ্জের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিমুল ঢাকায় আটক

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি : আসিফ নজরুল

মুক্তির অপেক্ষায় দক্ষিণী ৩ সিনেমা

রাত ১০টা পর্যন্ত গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সিরিয়ায় কারফিউ, শহর ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দা

ছয় ম্যাচে ছয় হার নোয়াখালীর

কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন করতে পারবেন না বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল

খেজুর গাছ প্রতীকে কতটা আত্মবিশ্বাসী জমিয়ত?

১০

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণা

১১

ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর বদল করতে গিয়ে ধরা, ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

১২

এশিয়ান স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত কালবেলার রানা হাসান

১৩

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার

১৪

সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচি ঘোষণা

১৫

জনগণের টাকা মেরে জনসেবার প্রয়োজন নেই : হাসনাত আব্দুল্লাহ

১৬

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের একজোট হয়ে হুঁশিয়ারি

১৭

৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার

১৮

৫ ব্যবসায়ীর ভাগ্য আগুনে পুড়ে ছাই

১৯

দুর্নীতি দমনে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন চান নাগরিকরা

২০
X