কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই দিনটি

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ

আজ ১৪ জানুয়ারি। এই দিনে ঐতিহাসিক পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের শুরু হয়। এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং রক্তক্ষয়ী ঘটনা। ১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি দিল্লির উত্তরে পানিপথের প্রান্তরে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে একপক্ষে ছিল মারাঠা সাম্রাজ্য এবং অন্যপক্ষে ছিল আফগানিস্তানের শাসক আহমদ শাহ আবদালির (দুররানি) নেতৃত্বে একটি সম্মিলিত বাহিনী।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মোগল সাম্রাজ্যের পতনের সুযোগে মারাঠারা ভারতে তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। তারা উত্তর ভারতের বিশাল এলাকা দখল করে নেয়। সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে থাকে দিল্লির রাজনীতিতে। অন্যদিকে, আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালি ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে তার প্রভাব বজায় রাখতে ছিলেন তৎপর। মারাঠাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা আবদালির স্বার্থে আঘাত করলে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবদালির সঙ্গে স্থানীয় রোহিলা আফগান এবং অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা যোগ দেন, যা আফগান বাহিনীকে শক্তিশালী করে তোলে।

সদাশিব রাও ভাউর নেতৃত্বে মারাঠারা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তবে যুদ্ধের আগেই মারাঠারা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকায় তাদের রসদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সেনারা ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যুদ্ধের দিন অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করলেও মারাঠারা আফগানদের উন্নততর সামরিক কৌশল এবং আধুনিক ভারী কামানের সামনে টিকতে পারেনি। আবদালির সুশৃঙ্খল অশ্বারোহী বাহিনী এবং রিজার্ভ ফোর্সের সঠিক ব্যবহার যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মারাঠা সেনাপতি সদাশিব রাও এবং পেশোয়ারপুত্র বিশ্বাস রাও যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হন। এ যুদ্ধে মারাঠাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তাদের হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, এই যুদ্ধের প্রধান ফল ছিল, মারাঠারা ভারত শাসন করবে না, এটি নিশ্চিত হওয়া।

যুদ্ধ কয়েক দিন স্থায়ী হয়। প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার সৈন্য এতে অংশগ্রহণ করে। উভয়পক্ষের লাভ এবং ক্ষতির পর আহমদ শাহ দুররানি পরিচালিত আফগান বাহিনী বিজয় লাভ করে। উভয়পক্ষের ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও ঐতিহাসিকদের মতামত ব্যাপক বিতর্কিত। তবে এটি বিশ্বাস করা হয় যে, ৬০ থেকে ৭০ হাজারের কাছাকাছি সেনা যুদ্ধে নিহত হয়। একইভাবে আহত ও বন্দির সংখ্যা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, যুদ্ধের পর প্রায় ৪০ হাজার মারাঠা কয়েদিকে হত্যা করা হয়। গ্রান্ট ডাফ তার ইতিহাসে এ গণহত্যা থেকে বেঁচে ফেরা এক মারাঠা সৈনিকের একটি সাক্ষাৎকার এ সংখ্যাকে সমর্থন করেছেন। সেজওয়ালকর যার ‘১৭৬১, পানিপথ প্রকরণ গ্রন্থ’; যেটি এ যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য হয়, তাতে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সময়ে এবং পরে এক লাখেরও বেশি মারাঠা (সৈন্য ও অযোদ্ধা) ধ্বংস হয়ে যায়।’

তবে এ যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ছিল আরও গভীর। মারাঠা শক্তির পতনে ভারতে একটি রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। উত্তর ভারতে কোনো শক্তিশালী দেশীয় শক্তি না থাকায় পরোক্ষভাবে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অগ্রযাত্রার পথ সুগম হয়। যদি এ যুদ্ধে মারাঠারা জয়ী হতো, তবে ভারতের ইতিহাস হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো বলে মনে করেন বহু ইতিহাসবিদ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আরাও এক আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

গভীর রাতে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন!

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : দুঃখ প্রকাশ সেই জামায়াত নেতার

আর্সেনালকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জমিয়ে তুলল ম্যানইউ

তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ফোনালাপ

ইয়ামালের অসাধারণ গোলে আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সা

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি তার ভাইয়ের

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসুর সর্বমিত্র

বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে ফোন করে হুমকি

১০

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

১১

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

১২

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

১৩

তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন :  সালাম

১৪

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢামেকে শোক বই, উদ্বোধন করলেন ড্যাব সভাপতি 

১৫

শাকিবের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ‘গোপন’ খবর ফাঁস করলেন অমিত হাসান

১৬

ইসিকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনা নিশ্চিত করতে হবে : রবিউল

১৭

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

১৮

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১৯

তারেক রহমানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : মঈন খান

২০
X