

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ২৮৫০ টাকা বেতন স্কেলে ১৯৯৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদারীপুর জেলার কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। চাকরিবিধি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আমি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসরগ্রহণ করি। সর্বশেষ ২৯ হাজার টাকা স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ভোগ করি। আমি কর্মরত থাকাকালে অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রি (পাস) ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পাঠদান, শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ নানা দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করি।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন উচ্চ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। প্রায় সময়ই শিক্ষকস্বল্পতার কারণে আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিন্তু অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির জন্য জনবল কাঠামো পরিবর্তন বা শিক্ষকের পদ সৃষ্টি না করায় এ দীর্ঘ সময়েও এমপিওভুক্ত হতে পারিনি। কলেজ কর্তৃপক্ষও বেতন-ভাতা নিয়মিত প্রদান করতে না পারায় আমার চাকরিজীবন চরম আর্থিক সংকটে কাটে। ফলে অসুস্থ স্বামী ও দুই মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয় বহনে আমাকে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করি। আমার চাকরির সময়কালে আওয়ামী লীগ চারবার ও বিএনপি দুবার ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে হাজার হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা সরকারীকরণ, এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। অথচ কোনো সরকার উচ্চশিক্ষায় পাঠদান করা অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়নি।
আমাদের গত তিন দশকের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের জন্য নতুন এমপিও নীতিমালা ’২৫ ঘোষণা করেছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের। কিন্তু অতীব দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করি যে, অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় কলেজে শিক্ষকতা করে শূন্য হাতে অবসরে যাওয়া একজন নিম্নআয়ের শিক্ষকের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
সংশ্লিষ্টদের সদয় অবগতির জন্য বিনীতভাবে জানাচ্ছি যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর দিকে মাত্র কয়েকটি (আনুমানিক পাঁচ-সাতটি) বেসরকারি বা আধাসরকারি ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমোদন দেয়। এ কারণে অবসরে যাওয়া শিক্ষকও নগণ্যসংখ্যক, যার তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বেনবেইস অফিসে সংরক্ষিত আছে। কাজেই এজন্য বেশি অর্থ ব্যয় হবে না। উপর্যুক্ত তথ্যের আলোকে এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে আমার অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।
সন্ধ্যা রানী বল,
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক
মন্তব্য করুন