একাডেমিতে অনুশীলন করাচ্ছিলেন চট্টগ্রামের স্থানীয় কোচ তপন দত্ত। হঠাৎ এক শিক্ষার্থী তামিম ইকবালের লাইভ থেকে ছুটে যান তার কাছে। শুরুতে ভেবেছিলেন প্রতিদিনের মতো কোনো সংবাদ সম্মেলন! কিন্তু যখন জানলেন ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন প্রিয় শিষ্য তামিম। তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তপন দত্ত। তামিমকে কাঁদতে দেখে নিজেই কেঁদে ফেললেন, রুম থেকে বেরিয়ে অঝোরে কাঁদলেন। এভাবে বিদায় নেবেন তামিম, ভাবতেও পারেননি তিনি। যেমনটা বলেছিলেন, ‘মেনে নিতে পারছি না। এভাবে বিদায় নেওয়া উচিত নয়। এটা আমার কল্পনার বাইরে। তামিমের মতো ছেলে এভাবে বিদায় নেবে, এটা আমি কেন, কেউই মানতে পারছে না।’
বিদায়বেলায় পরিবার, সতীর্থ, বোর্ডের পাশাপাশি একজন মানুষকে স্মরণ করেছিলেন তামিম। তিনি হলেন তার ছোটবেলার কোচ তপন দত্ত। কান্নাভেজা চোখে তামিম তাকেও ধন্যবাদ দিলেন। শিষ্যের কাছ থেকে পাওয়া এমন সম্মানে সম্মানিত বোধ করছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য গর্বের। আমি চাইব ক্রিকেট বোর্ড যেন তাকে আবারও ফিরিয়ে আনে।’ তবে কান্না থামেনি তপন দত্তেরও। তামিম যেমন কেঁদেছিলেন, তেমন কাঁদলেন তিনিও। তামিমের বিদায় যে এখনো পোড়াচ্ছে তাকে, ‘আমার ছেলে হিসেবে বলব, মনে হলো একটা নক্ষত্র ঝরে পড়তেছে। এটা কীভাবে সহ্য করব বলেন। অর্ধেকে এসে শেষ হলে তো মেনে নিতে কষ্ট হবে।’
অবশ্য অবসর নিয়ে কোচের সঙ্গে কথা হয়নি তামিমের। সম্প্রতি দুজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগও হয়নি। তবে আয়ারল্যান্ড সিরিজের সময় একবার কথা হয়েছিল। সেবার অবসরের গুঞ্জন শুনে তামিমকে বুঝিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘এখনো সময় হয়নি। তোমার আরও দুটি বিশ্বকাপে খেলা বাকি আছে। তারপর অবসর করবা। কিন্তু এখন তো হঠাৎ করে করল, এটা নিয়ে কী আর বলব।’ তামিমের এভাবে বিদায় শুধু তপন দত্তই নয়, পুরো চট্টগ্রামের মানুষকে থমকে দিয়েছে বলা যায়।
মন্তব্য করুন