দলীয় অনুশীলনের শেষ ধাপে এসে সাগরিকার উত্তর-পশ্চিম পাশের নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেন সৌম্য সরকার। একই সময় পাশের নেটে ব্যাটে শান দিতে দেখা গেছে মেহেদী হাসান মিরাজকে। অবশ্য একদিন আগের অনুশীলনে ছিল ভিন্ন কম্বিনেশন। সেদিন সৌম্যর পাশের নেটে ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে খেলা বাংলাদেশের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে আবার সৌম্যর ওপেনিং সঙ্গী ছিলেন এনামুল হক বিজয়; লিটন খেলেছিলেন চারে। তবে গত দুদিন চট্টগ্রামের নেটে খুব একটা দেখা মেলেনি এনামুলকে। তাহলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে কে কার সঙ্গী হচ্ছেন! প্রশ্নটা পেয়েও উত্তরটা ম্যাচ পর্যন্ত টেনে নিতে চাইলেন সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ব্যাটিং অর্ডারকে মিউজিক্যাল চেয়ার বানাতে যে চান না, সেটা নিশ্চিত করেছেন লম্বা সময়ের জন্য তিন সংস্করণেই জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া শান্ত।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ১৫ জনের স্কোয়াডে বাংলাদেশ রেখেছে চারজন ওপেনার। লিটন, সৌম্য, এনামুল ছাড়াও আছেন তরুণ তানজিদ হাসান তামিম। নেটে এনামুল ছাড়া বাকি তিনজনকেই বেশি সময় অনুশীলন করতে দেখা গেছে। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তো প্রায় আধঘণ্টার মতো আলাদা করে কথা বলেছেন সৌম্যর সঙ্গে। সহকারী কোচ নিক পোথাসকে দেখা গেছে তরুণ ওপেনার তামিমকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে। তাহলে আজ ওপেনিংয়ে কী লিটন থাকছেন। অধিনায়ক শান্তর কাছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘কাল যখন ব্যাটিংয়ে নামবে, তখনই জানতে পারবেন। পুরোটাই দলের পরিকল্পনা। দলের জন্য যার যেখানে প্রয়োজন হবে সেটাই করা হবে। কিন্তু এখন এটা বলতে চাইছি না।’ তাহলে কি বিশ্বকাপের মতো ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে এখনো! শান্ত অবশ্য এবার পরিষ্কার বার্তা দিলেন, ‘গত সিরিজ আমরা যখন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেললাম, তখন খুব একটা বদল হয়নি। সাকিব ভাই নাই, সমন্বয়ে তো একটু এদিক-সেদিক হয় অনেক সময়। উনি থাকলে দলটা করা আমাদের জন্য সহজ হয়। ওটা মাথায় রেখেই আমাদের ব্যাটিং অর্ডারটা সাজাব। আমাদের দলের জন্য যেটা ভালো হবে, সেটাই করার চেষ্টা করব। ব্যাটিং অর্ডার আশা করছি থিতু থাকবে।’ অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলা সর্বশেষ ওয়ানডের সঙ্গে আজকের ব্যাটিং অর্ডারের খুব একটা পার্থক্য তৈরি করতে চান না শান্ত। সেক্ষেত্রে সৌম্য সরকারই হতে পারেন একপাশের ওপেনার।
প্রায় দেড় বছর পর দলে ফিরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১৬৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন সৌম্য। পরের ম্যাচে ৪ চার করে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। অভিজ্ঞ সৌম্যর প্রশংসা করে শান্ত বলেছেন, ‘গত সিরিজে ওয়ানডেতে অনেকদিন পর ফিরল। তিনটা ম্যাচ খেলল, তার ভেতরে একটাতে বড় ইনিংস খেলল, একটাতে মাশাআল্লাহ।’ কিন্তু সৌম্যর অতীত রেকর্ড তার পক্ষে নেই। বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য থাকলেও ধারাবাহিকতার ঘাটতি আছে বাঁহাতি এই ব্যাটারের। বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েও দলে থিতু হতে পারেননি তিনি। অবশ্য অধিনায়ক শান্তর কাছে শুধু সৌম্যই নন, সবারই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা চান তিনি, ‘ধারাবাহিকতা সবারই প্রয়োজন আছে। আলাদাভাবে সৌম্যর একার প্রয়োজন, সেটা বলব না। প্রত্যেক ব্যাটারকে এ জায়গায় উন্নতি করার দরকার আছে।’ ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দায় না দিয়ে সবার কাছেই ধারাবাহিকতা চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।