রাশেদ রাব্বি
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৫৯ এএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৫৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করছে ব্যাকটেরিয়া

আইইডিসিআরের গবেষণা
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করছে ব্যাকটেরিয়া

ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বেশ কিছু রোগের জীবাণুর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে না। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এএমআর সার্ভিল্যান্স হালনাগাদ গবেষণায় মোট ২৭ হাজার ৪৩৮ জন রোগীর বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ৮ শতাংশ জীবাণুর মধ্যে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় ২৭৩ নমুনার মধ্যে ৪৮ শতাংশ ব্যাকটেরিয়ায় এক ধরনের রাসায়নিক এনজাইম শনাক্ত হয়, যা ব্যাকটেরিয়া নিজে তৈরি করে এবং যা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতাকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব এএমআর সপ্তাহ শুরু হয়েছে। ১৮ নভেম্বর সোমবার থেকে শুরু হয়ে এটি চলবে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার অর্থ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়া। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে, এসব জীবাণুর কারণে মানবজীবন হুমকিতে পড়তে পারে। অতি সাধারণ কারণেও মানুষের মৃত্যু হবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, চারপাশে প্রচুর ওষুধ থাকার পরও জীবন বাঁচানোর মতো ওষুধ মিলবে না।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। গবেষণার বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন ধরনের ক্লিনিক্যাল নমুনা থেকে প্রাপ্ত ওষুধ প্রতিরোধী রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া আলাদা করে তার জিন রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণু প্রতিরোধী ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, শুধু পেশাজীবীদের (চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট) মধ্যে এএমআর সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু থেকে বাঁচতে হলে সর্বজনীন সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এজন্য সাধারণ শিক্ষায় পাঠ্যক্রমে এএমআর সচেতনতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হলো এমন একটি অবস্থা, যা তখনই ঘটে, যখন কিছু ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা অর্জন করে। এসব ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া। এরা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতেও অভিযোজিত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে উঠতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে মানুষ বা পশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।

আগে যে অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সেরে যেত, এখন আর সেই অ্যান্টিবায়োটিকে সারে না; বরং ক্রমেই বাড়তে থাকে। এসব রোগাক্রান্ত মানুষ বা পশু অন্য কারও উপস্থিতিতে হাঁচি-কাশি প্রভৃতির মাধ্যমে তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয় এবং তারাও একই রকম রোগে আক্রান্ত হয়।

এদিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ জীবাণু সব ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। যেসব নমুনায় এই জীবাণু পাওয়া গেছে, তার ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশই ক্ষতস্থানের নমুনা। অন্যদিকে একাধিক ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু পাওয়া গেছে ২০ বছরের নিচে রোগীর মধ্যে ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ রোগী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। এসব রোগীর ৭১ দশমিক ৮ শতাংশের অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণু প্রতিরোধী ওষুধ গ্রহণ করার ইতিহাস আছে। তাদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ রোগীই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছেন। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ৪টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৩৫০টি প্রাথমিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সিউডোমোনাস’ এমন একটি জীবাণু, যা সব ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এর পরই রয়েছে ই-কোলাই। এ গবেষণায় সবচেয়ে বেশি নমুনা নেওয়া হয়েছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে। অণুজীব সবচেয়ে বেশি ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ ছিল সিউডোমোনাসে। জীবাণুগুলোর মধ্য থেকে আয়ন টরেন্ট জিনোম সিকোয়েন্স দিয়ে দৈবচয়নের মাধ্যমে ৩২টি জীবাণুর টার্গেট জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করা হয়। গবেষণায় এমন ৩০ ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর জিন পাওয়া গেছে, যেগুলো সব ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এর অধিকাংশই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য বিভাগে শনাক্ত করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুলাভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম / সিলেটি দামানের আগমনে উৎসবের আমেজ

নবম স্কেলে সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য যে সুবিধা

ডিআরইউ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ : ৬ শর্তে উত্তীর্ণ ৬৯২৬৫ প্রার্থী

‘বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিচলিত নয় জমিয়ত’

নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণের ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল 

মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ : জামায়াত আমির

স্বামীর নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামলেন নাসরিন আউয়াল মিন্টু

শহীদ ওয়াসিম স্মৃতি সংসদ ঢাকা কলেজের সদস্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু

অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন? এখনই যে কাজ না করলে বিপদ

১০

বিস্কুটে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে কেন? অবাক করা কারণ জেনে নিন

১১

সারা দেশে বহিষ্কার করা নেতাকর্মীদের তথ্য জানাল বিএনপি

১২

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ভারতে

১৩

আইসিসির বোর্ড সভায় একটি দেশ পক্ষে ছিল বাংলাদেশের! 

১৪

তারেক রহমানের জনসভায় নাশকতার শঙ্কা নেই : এসএমপি কমিশনার

১৫

সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

১৬

আরও শক্তি বাড়াল মোস্তাফিজের সাবেক দল

১৭

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার

১৮

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছে পাকিস্তান

১৯

সিলেটের পথে তারেক রহমান

২০
X