

গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফকে পাঠানো আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইসলামাবাদ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) জিউ নিউজ উর্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নং ২৮০৩-এর আওতায় প্রণীত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করে জানায়, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। পাকিস্তান একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করে। পাকিস্তানের অবস্থান হল ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার মধ্যে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত, যার রাজধানী হবে জেরুজালেম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য হিসেবে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। ফিলিস্তিনে শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে দেশটির অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে সুদৃঢ় এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি গোপন নথি ফাঁস করে। যেখানে তারা জানায়, ‘বোর্ড অব পিস’-এ বিভিন্ন বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এই বোর্ডে স্থায়ী আসনের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
যদিও প্রাথমিকভাবে বোর্ডটি গাজার পুনর্বাসন তত্ত্বাবধানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়, তবে এর নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে এটি শুধু গাজার মধ্যে তার পরিধি সীমাবদ্ধ রাখেনি। ধারণা করা হচ্ছে নতুন এই সংস্থাটি জাতিসংঘের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে।
মন্তব্য করুন