

নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের পথে যাত্রা করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র মাহাদী আমীন জানান, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছে তিনি গভীর রাতে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।
সিলেট সফর শেষে পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম, নরসিংদী পৌর এলাকার সংলগ্ন স্থান এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
দীর্ঘ ২১ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি আগমন ঘিরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নে চলছে ব্যস্ত প্রস্তুতি। বুধবার রাতে তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি বিরাইমপুর গ্রামে যাবেন বলে স্থানীয় বিএনপি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এ সফরকে কেন্দ্র করে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জিয়া ফাউন্ডেশন ইউরোপের সমন্বয়ক ও সিলাম এলাকার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম স্বপন বলেন, বহু বছর পর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও শিরনি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা সবাই আনন্দিত। এ উপলক্ষে ৪০ হাঁড়ি আখনি রান্না করা হচ্ছে। দোয়ার পর প্রায় ১২ হাজার মানুষের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হবে।
জানা যায়, স্বল্প সময়ের নোটিশে কর্মসূচি চূড়ান্ত হলেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জুবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলী খান কালবেলাকে বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত হওয়ায় চাইলেও অনেক কিছু করা সম্ভব হয়নি। তারপরও শতাধিক মানুষ পৈতৃক বাড়ির মেরামত ও চার দিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত ছিলেন, যেন তিনি এসে একটি আন্তরিক ও সুন্দর পরিবেশ পান।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে অবস্থিত ওই বাড়িতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা অবস্থান করবেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি সেখানে প্রথমবারের মতো যান। প্রায় ২১ বছর পর আবারও তার সফর ঘিরে এলাকাজুড়ে আলাদা এক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’
বিরাইমপুর গ্রামে জুবাইদা রহমানের আত্মীয়স্বজনরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জামাই আগমন উপলক্ষে পারিবারিক পরিসরে আপ্যায়ন, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন রাখা হয়েছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণেও বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
মন্তব্য করুন