

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই বামদলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের’ আকাশ কালো মেঘের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের এক-পঞ্চমাংশ বৈধতার বৈতরণি পার হতে পারেনি। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রার্থী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য সুখবর এসেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সিপিবির নতুন কমিটির তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ না হওয়ায় মনোনয়নপত্রের তথ্যের সঙ্গে গরমিল দেখা দেয়। বিষয়টি জানার পর সমস্যা সমাধানের পথ খোলে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিলে এসব বিষয়ে সমাধান হয়ে যাবে।’
জোট সূত্রে জানা গেছে, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ১৫৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি আসনে যুক্তফ্রন্টের একক প্রার্থী থাকলেও বাকি ৫৩টি আসনে একাধিক শরিক দলের প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে সিপিবি থেকে ৬৫, বাসদ থেকে ৪১, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে ৩২ এবং বাংলাদেশ জাসদ থেকে ১৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে সিপিবির ২০, বাসদের ৫, বাংলাদেশ জাসদের ৫ ও বাসদের (মার্কসবাদী) দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা পায়নি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আপিলে বৈধতা পেতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরপর যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে নিবন্ধিত চারটি দল খসড়া প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। শুরুতে সিপিবি ১১৮টি, বাসদ ১১০টি, বাংলাদেশ জাসদ ৫৭টি এবং বাসদ (মার্কসবাদী) ৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে এসব প্রার্থী তালিকা নিয়ে সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়।
মনোনয়নপত্র দাখিল করা প্রার্থীদের মধ্যে আবার জোটের অনিবন্ধিত দলেরও আটজন রয়েছেন। তারা জোটভুক্ত নিবন্ধিত দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। অনিবন্ধিত গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির একজন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সিপিবি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের একজন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের একজন এবং সোনার বাংলা পার্টির চারজন বাসদ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ কালবেলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত জোট মনোনীত শতাধিক প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। সিপিবির কিছু বাতিল হয়েছে ঠুনকো কারণে, যার বেশিরভাগই আপিলে টিকে যাবে।
গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রকাশ ঘটে। অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত এই ফ্রন্টে যুক্ত হয় ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত ছয়টি দল সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও বাসদ (মার্কসবাদী)। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার শরিক চারটি দলের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাহবুব) নতুন জোটে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সোনার বাংলা পার্টি নামের আরেকটি দল সরাসরি যুক্তফ্রন্টের শরিক না হলেও নির্বাচনী জোটে থাকতে সম্মত হয়।
তপশিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ দিন ১১ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দিলে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি।
মন্তব্য করুন