আলী ইব্রাহিম
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:১২ এএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:২৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

পানগাঁও কাস্টমসে পদে পদে হয়রানি

প্রতিদিনই মাশুল গুনছেন ব্যবসায়ীরা
পানগাঁও কাস্টমসে পদে পদে হয়রানি

দেশের অন্যান্য কাস্টমস হাউসের বিপরীত চিত্র পানগাঁও কাস্টম হাউসে। এখানে পণ্য খালাসে পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এক কর্মকর্তা পরীক্ষণ শেষে খালাসের জন্য ফাইল ছেড়ে দিলেও অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন ঊর্ধ্বতন আরেক কর্মকর্তা। রেফারেন্স ভ্যালু থাকার পরও মানা হচ্ছে না। দিনের পর দিন পণ্য আটকে থাকছে বন্দরে। এতে প্রতিদিনই মাশুল গুনছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া শিটের প্রাইম ও সেকেন্ডারি জটিলতায় বন্দরে প্রায় ৮৫০ কনটেইনার আটকে আছে পানগাঁও কাস্টমসে।

পানগাঁও কাস্টম হাউস ঘুরে দেখা গেছে, চীন থেকে হাইড্রোলিক রাবার হোস পাইপ আমদানি করেছে আর কে এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের পণ্য বিভিন্ন কাস্টম হাউস দিয়ে আমদানি করে। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট পানগাঁও কাস্টম হাউস দিয়ে দুই কনটেইনার পণ্য আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। যার বি/ই নম্বর ৬৪৬৮। দীর্ঘদিন ধরে রাবার হোস পাইপ দুই ডলারে এসেসমেন্ট করা হয় কাস্টমসে। এই আমদানিকারকের আগের কনটেইনারও দুই ডলারে এসেসমেন্ট করা হয়েছে। কিন্তু নতুন অতিরিক্ত কমিশনার এসেই পাল্টে দিয়েছেন নিয়ম। তিনি এই পণ্য চার ডলারের নিচে এসেসমেন্ট করবেন না বলে চাপ তৈরি করেন। রেফারেন্স তথ্যও আমলে নিতে রাজি নন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন কাস্টম হাউসে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে রেফারেন্স আমলে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি বিষয়টি আমলে নেননি। শুধু এই পণ্যের শুল্কায়ন নয়, বিভিন্ন পণ্যের শুল্কায়নেও নিজের ইচ্ছামতো নিয়ম চালু করেছেন এই কাস্টম হাউসে।

এ বিষয়ে পানগাঁও কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. আবু নূর মোহাম্মদ রাশেদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার দপ্তর থেকে বলা হয়, তিনি কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করেন না। পরে মোবাইল ফোনে কল দিলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

এ বিষয়ে পানগাঁও কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মাসিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, আসলে হাউড্রোলিক রাবার হোস পাইপ চার ডলারে শুল্কায়ন হবে। এটা রাবার হোস পাইপ হলে দুই ডলারে হতো। আগে তো এই কাস্টম হাউসে দুই ডলারে হয়েছে, রেফারেন্স রয়েছে—জবাবে তিনি বলেন, এটা চার ডলারেই হবে। শিটের প্রাইম এবং সেকেন্ডারি কোয়ালিটি জটিলতা নিয়ে আটকে থাকা ৮৫০ কনটেইনারের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কনটেইনার খালাস করতে। আর এ-সংক্রান্ত জটিলতা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কাস্টম হাউসের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রবেশ করে কিছুদূর এগোলেই দেখা যায় কনটেইনারের স্তূপ। এর মধ্যে শিটের প্রায় ৮৫০ কনটেইনার আটকে আছে। আর সব মিলিয়ে দেড় হাজারের বেশি কনটেইনার আটকে বলে জানিয়েছে বন্দর সূত্র।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কাস্টম হাউসে শিটের কোয়ালিটি সংক্রান্ত জটিলতা অতিরিক্ত কমিশনার ড. আবু নূর মোহাম্মদের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে থাকাকালীন এই অতিরিক্ত কমিশনার শিটের প্রায় ৪৫০ গাড়ি বন্দরে আটকে রাখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কমিশনারের সিদ্ধান্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। আর এই অতিরিক্ত কমিশনারের দাবি করা শিট প্রাইম কোয়ালিটির না হওয়ায় পরে কাস্টম হাউস থেকে ব্যাংক গ্যারান্টিও ফিরে পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে পানগাঁও কাস্টম হাউসে বদলি হয়ে এসে একই কাজ শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। আর হয়রানির ভয়ে কেউ মুখও খুলতে চাননি। শুধু শিটের কনটেইনার নয়, অন্যান্য কনটেইনারও আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এই হয়রানির প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় কাজ বন্ধ করে প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে কাজ বন্ধ করে মিছিলও করেন ব্যবসায়ীরা।

এক শিট আমদানিকারক কালবেলাকে বলেন, শিটের কোয়ালিটি নিয়ে কাস্টমসে জটিলতা শুরু করেছেন তিনি (আবু নূর মোহাম্মদ)। চট্টগ্রাম কাস্টমসে জটিলতা করলেও পরে তার দাবি করা প্রাইম কোয়ালিটি সেকেন্ডারি হিসেবে প্রমাণিত হয়। শুধু হয়রানির জন্য তিনি এ ধরনের সমস্যা তৈরি করছেন। আর পানগাঁও কাস্টম হাউসে পান থেকে চুন খসলেই মামলা ঠুকে দিচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ীদের পণ্য খালাস করতে দীর্ঘসময় লাগছে। এজন্য বড় অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে তাদের। একে তো ডলার সংকট, তার ওপর দিনের পর দিন টার্মিনালে পড়ে থাকাতে পণ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসিকে ‘বাজে অভিনেতা’ বলে কটাক্ষ করলেন অভিনেত্রী

তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে ‘ড্রোন কারখানা’ নির্মাণ হচ্ছে বাংলাদেশে

বরিশালে থানা ঘেরাও, পুলিশ-স্বজন সংঘর্ষে আহত ৬

ফার্মেসি মালিককে হত্যায় ৭ জনের যাবজ্জীবন

কর্মস্থলে অনুপস্থিত, চাকরি গেল ৪ পুলিশ কর্মকর্তার

স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকক্ষে ভোটার বাড়াল ইসি, গেজেট জারি 

শিক্ষার্থীকে উড়ন্ত বিমানে রেখেই ঝাঁপ দিয়ে প্রশিক্ষক পাইলটের আত্মহত্যা

চেকপোস্টের সামনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, জাপান ফেরা হলো না প্রবাসী পরিবারের

সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় পরিবেশ পদক নিলেন ঢাবি প্রো ভিসি

১০

মার্কিন হামলা উপেক্ষা করে খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের সমাগম

১১

বসুন্ধরা শপিংমলে নিম্নমানের শিশুখাদ্য ও কসমেটিক বিক্রি, ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

১২

আ.লীগ আমলে ক্রসফায়ারে নিহতদের তথ্য প্রকাশে লিগ্যাল নোটিশ

১৩

ফিফার নতুন নিয়মে ফাইনালে ওঠার পথ সহজ আর্জেন্টিনাসহ ৪ দলের

১৪

যুগ্মসচিব হলেন আরও ৭ কর্মকর্তা

১৫

সুনামগঞ্জে পর্যটক পরিবহনে সতর্কতা জারি

১৬

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব ইরানের

১৭

সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

১৮

বিপুল ইয়াবাসহ মাদক চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

১৯

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ

২০
X