আপন জুয়েলার্সের মালিক গুলজার আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৩০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে দুদক ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ সালে আপন জুয়েলার্সের তিনজন মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান চলাকালে অন্যতম মালিক গুলজার আহমেদ ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুদকে তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। তিনি সম্পদ বিবরণীতে ৭৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৭১৪ টাকা অর্জনের ঘোষণা দেন; কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার ৮৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ২৭২ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে তার ১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ৫৭ হাজার ৫৭ টাকা ঋণ রয়েছে, যা বাদ দিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১ কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা। এর মধ্যে তার ৪১ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার ৫৫১ টাকা অর্জনের বৈধ উৎস পাওয়া যায়। আর বাকি ৩০ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকার বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। এসব সম্পদ তিনি অবৈধভাবে অর্জন করে ভোগদখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
দুদকের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের ছেলে সাফাত আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়। এর পরই আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। কমিশন অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপপরিচালক এস এম আখতার হামিদ ভূঞাকে নিয়োগ করে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা বদল হলে মোশাররফ হোসেইন মৃধাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়। তখন তারা সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করেন। এরপর তারা অন্য মামলায় কারাগারে বন্দি থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং অনুসন্ধান কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন