রাফসান জানি
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:৩৫ এএম
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৪, ০৯:০৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সমর্থন পেলে কোনো কিছুই চ্যালেঞ্জিং নয়

পুলিশ এভিয়েশন উইংয়ের প্রথম নারী পাইলট ফাতেমা
সমর্থন পেলে কোনো কিছুই চ্যালেঞ্জিং নয়

আমরা যতই নিজেদের আধুনিক মানুষ হিসেবে দাবি করি না কেন, এখনো আমাদের দেশের নারীদের নানা বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে সমাজ, কর্মক্ষেত্র এবং পরিবারের বাধা নারীকে সামনে এগিয়ে যেতে দেয় না। তবে পরিবারের সমর্থন যদি কোনো নারী পান, তাহলে কোনো বাধাই তাকে লক্ষ্যে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। তেমনই একজন হলেন পুলিশ এভিয়েশন উইংয়ের প্রথম নারী পাইলট ফাতেমা তুজ জোহরা।

পুলিশ এভিয়েশন উইং গঠিত হওয়ার পর তাতে যুক্ত হয়ে পুলিশের প্রথম নারী পাইলট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ৩৬তম ব্যাচের সহকারী এই পুলিশ সুপার ফাতেমা। তার মতে, একজন নারীকে পরিবারে অনেক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। এই ভূমিকাগুলো পালন করতে গিয়ে নারী ব্যতিক্রম কিছু করার সময় পান না। তবে পরিবার সমর্থন পেলে যে কোনো নারী চ্যালেঞ্জিং পেশায় এসেও সফল হতে পারেন। ব্যতিক্রম কিছু করার জন্য সময় বের করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে ফাতেমা তুজ জোহরার সঙ্গে কথা হয় কালবেলা প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তার জন্ম পাবনায়। রাজবাড়ীর পাংশা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি, পাংশা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্সে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে যোগ দেন পুলিশ ক্যাডারে। পরে যুক্ত হন পুলিশ এভিয়েশন উইংয়ে।

প্রথমে পুলিশ, পরে এভিয়েশন উইংয়ে নিজেকে যুক্ত করার পেছনে ফাতেমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে তার পরিবার। তিনি বলেন, আমার বরাবরই আগ্রহ ছিল ব্যতিক্রমী কিছু করার। সেই আগ্রহ থেকেই এই চ্যালেঞ্জকে বেছে নেওয়া। পরিবারের সমর্থন পেলে সব কাজ করেও একজন নারী তার ইচ্ছা পূরণে মনোযোগ দিতে পারেন।

ফাতেমা বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও পরিজনের সমর্থন পেয়েছি। আমি আমার বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। তারা কখনো আমাকে নারী হিসেবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেনি। তারা সবসময় চেয়েছেন তাদের সন্তান যেন নিজের পায়ে আত্মসম্মান বোধ নিয়ে দাঁড়াতে পারে।

পুলিশের এভিয়েশন উইংয়ে যোগদানের পর ফাতেমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘সলো ফ্লাই’ সম্পন্ন করা। যা একা একা টেক অফ করে একটি সার্কেল পূর্ণ করার পর ল্যান্ড করতে হয়। এই সলো ফ্লাই পেতে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তিনি বলেন, এভিয়েশনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আমার চ্যালেঞ্জ ছিল ফ্লাইং শেখা। এটা আয়ত্তে আনা যে কারও জন্যই খুব কঠিন। নারী হিসেবে আমার জন্য এটা আরও বেশি কঠিন ছিল। কারণ, আমি ছোটবেলায় কখনো বাইক চালাইনি, গাড়ি চালাইনি। এমনকি ঘুড়ি ওড়ানোর মতো কিছু করিনি। এসব কাজ খুব স্বাভাবিকভাবে মানুষের মধ্যে মোটর সেন্স, ডিরেকশনাল সেন্স, জিওগ্রাফিক্যাল পজিশন এসব ধারণা তৈরি করে। আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল সলো ফ্লাই সম্পন্ন করা। তবে সহকর্মীদের ভ্রাতৃসুলভ আচরণ ও প্রশিক্ষকদের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ জার্নিটা ভালোভাবেই পার করতে পেরেছি।

ফাতেমা বলেন, আমাদের দেশের নারীরা আসলে আটকে যাচ্ছে ভাবনার জায়গা থেকে। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আমাদের ভাবনার এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। আর এটা করতে সবার আগে প্রয়োজন পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতা।

চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসতে আগ্রহী নারীদের উদ্দেশে সহকারী পুলিশ সুপার ফাতেমা বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের জন্য যে বেড়াজাল রয়েছে, তা ছিঁড়ে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শক্তি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনী প্রচারণায় যা যা করতে পারবেন প্রার্থীরা

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে আলোচনার ভিডিও ভাইরাল

শাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

কেউ মিথ্যা বলছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

রাজধানীর স্কুলে শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

জমি নিয়ে বিরোধে ৩ বছরের শিশুকে হত্যা

পাকিস্তানে তেল-গ্যাসের বিপুল মজুত আবিষ্কার

নির্বাচনী প্রচার শুরু আজ, কোথায় কখন কর্মসূচি

১০

বারবার গলা পরিষ্কার করা কী বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ

১১

বিএনপি থেকে বহিষ্কার তাপস

১২

নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেব : সাঈদ আল নোমান

১৩

ইসলামী যুব আন্দোলনে যোগ দিলেন জামায়াত নেতা

১৪

আমি মানুষের সেবা করতে এসেছি : বাবর

১৫

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প

১৬

সকালের নাশতা বাদ দিলে যা হতে পারে

১৭

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৮

অফিসার নিচ্ছে লংকাবাংলা

১৯

গাজায় তিন সাংবাদিকসহ নিহত ১১

২০
X