কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪, ০২:৪১ এএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট চরমে, ভোগান্তি

গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত
সারা দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট চরমে, ভোগান্তি

সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ওই রাত থেকেই গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট বেড়েছে। গত বুধবার সকাল থেকে সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষ করার কথা বলা হলেও চট্টগ্রামে দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। এই কারণে শুক্রবারের আগে (আজ) পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষ হচ্ছে না বলে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত মে মাসের শেষে সামিটের মালিকানাধীন এলএনজি টার্মিনালটি ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যায় এবং গ্যাস সংকটের শুরু হয়।

এদিকে, গ্যাসের অভাবে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করিতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। জ্বালানির অভাবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও পুরোদমে চালানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদনও কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকাল সারা দেশে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করা হয়েছে বলে পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেন, আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়ার কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি কিছুটা কম হচ্ছে। তবে এই সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিল্পকারখানাগুলো।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। জিটিসিএলের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। শিগগির পাইপলাইন ঠিক হয়ে যাবে।

পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করতে আরও একদিন লাগার কথা জানিয়ে জিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. নজরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক করতে আমাদের প্রকৌশলীরা কাজ করছে। কিন্তু চট্টগ্রামে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কাজ শেষ করতে আগামীকাল (আজ শুক্রবার) পর্যন্ত সময় লাগবে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শেষ করার।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে লোডশেডিং বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে আগে থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছিল। এখন গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে, যে কারণে গত দুদিন তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। যে কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে যাবে।

জিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, সিইপিজেডের জেটি নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) কাজ পরিচালনার সময় ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের আনোয়ারা-ফৌজদারহাট উচ্চচাপ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের ক্ষতি হয়। নদীর তীর থেকে ২৮০ মিটার দূরত্বে মাটির দেড় মিটার গভীরে পাইপলাইনটি অবস্থিত। গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার অন্তর্গত মাঝেরচর এলাকায় (কাফকো ও বঙ্গবন্ধু টানেলের মধ্যবর্তী স্থানে) কর্ণফুলী নদীর আনোয়ারা প্রান্তে বেজার আনোয়ারা সিইজেড (চায়না ইপিজেড) নিয়োজিত ঠিকাদার সিআরবিসির (চায়না রোড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড) সাব-কন্ট্রাক্টর ফাস্ট হারবার কনস্ট্রাকশনের কারণে পাইপলাইনটির ক্ষতি হয়। পাইপলাইনের ওপর রিগ স্থাপন করে সয়েল টেস্টের সময় কাটারের আঘাতে জিটিসিএলের উল্লিখিত পাইপলাইন লিকেজ হয়ে যায়। বুধবার সকাল থেকে পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক করতে কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুপুরের পর থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কাজের গতি কমে আসে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গতকাল দুপুর ১টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ওই সময় উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট। আর লোডশেডিং হয়েছে এক হাজার ৭৯৫ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় সাধারণত চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে ওই সময় লোডশেডিং বেশি হয়। গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার রাত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টাব্যাপী লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর ভূতের গলির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদকে জানান, বুধবার রাতে লোডশেডিং হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেও একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহও কমেছে। সকাল থেকে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। রান্না করার উপযোগী নয়।

রাজধানীর চাইতে খারাপ অবস্থা বিভাগীয় শহর ও গ্রামাঞ্চলে। চট্টগ্রামে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ময়মনসিংহে। পেট্রোবাংলা গতকাল তিন হাজার ৮২৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করেছে ২ হাজার ২৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় পর্দায় আসছেন প্রভা

‘শক্তি থাকলে আসুক, হাত-পা ভেঙে দেব’, হুঁশিয়ারি জাপা নেতার

বাংলাদেশিরা ৫ কর্মদিবসেই পাবেন যুক্তরাজ্যের ভিসা, তবে...

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবি পার্টির বিক্ষোভ

যে কারণে আগামী মৌসুমে রিয়ালকে আতিথেয়তা দিতে পারবে না লিভারপুল

দত্তক নিয়ে ৩ সন্তানের মা সানি কেন নিজে গর্ভধারণ করেননি

১৭তম সন্তানের জন্ম দিলেন ৫৫ বছরের নারী!

দেশের দুঃসময়ে জিয়া পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য : আমান

চীনে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, কী ইঙ্গিত করছে?

গণনা শেষ, পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলল রেকর্ড টাকা

১০

সাপের মতো সুযোগ সন্ধানী শেখ হাসিনা ও তার দলবল : অধ্যাপক নার্গিস

১১

‘বাচ্চা না হলে সংসার ছেড়ে চলে যেতে হবে’

১২

তিন চমক নিয়ে ইতালির বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দল ঘোষণা

১৩

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরণ অনশনের আলটিমেটাম

১৪

চার সিদ্ধান্ত জানাল ডাকসুর নির্বাচন কমিশন

১৫

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

১৬

আফ্রিদির পছন্দের কেএফসির চিকেন আনল পরিবার, মেলেনি অনুমতি

১৭

মেয়োনিজ না পাওয়ায় ক্যাফেতে আগুন ধরিয়ে দিলেন বৃদ্ধ!

১৮

এবার ইসরায়েলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়াল রাশিয়া

১৯

তাসকিনের চার উইকেট, নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ১৩৬

২০
X