কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিজ্ঞান

ডার্ক ম্যাটার প্রমাণের কাছাকাছি

ডার্ক ম্যাটার প্রমাণের কাছাকাছি

মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্য ‘ডার্ক ম্যাটারের’ অস্তিত্ব প্রমাণের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ছায়াপথের কেন্দ্রে ছড়িয়ে থাকা এক ধরনের মৃদু গামা রশ্মির আলো শনাক্ত ও মানচিত্রায়ণ করে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা দুটি ধারণা পেয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারে।

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্সে প্রকাশিত গবেষণাটির বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বিশাল অংশজুড়ে যে অতিরিক্ত গামা রশ্মি শনাক্ত ‘ফার্মি গামা-রে স্পেস’ নামের টেলিস্কোপ। এর উৎস সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। একটি হলো, এসব গামা রশ্মি তৈরি হয়েছে ডার্ক ম্যাটারের বিভিন্ন কণার সংঘর্ষে, যেগুলো ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে জমে আছে। অন্যটি, এগুলো আসলে এক বিশেষ ধরনের নিউট্রন তারা, যা বিশালাকার বিভিন্ন তারার মৃত্যুর পর সংকুচিত ও ঘন হয়ে গঠিত হয়। উন্নত সিমুলেশনসহ আরও বড় পরিসরে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ দুটি ব্যাখ্যাই সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডার্ক ম্যাটারের বিভিন্ন কণার সংঘর্ষে যদি গামা রশ্মি তৈরি হয়, সেই রশ্মির ধরন ও তীব্রতা ‘ফার্মি’ স্যাটেলাইটে ধরা পড়া গামা রশ্মির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

গবেষণা দলটির নেতৃত্ব দেওয়া জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির মহাকাশবিজ্ঞানী জোসেফ সিল্ক বলেন, ‘আমাদের গবেষণার প্রধান ফলাফল হচ্ছে, গামা রশ্মির তথ্য বিশ্লেষণে ডার্ক ম্যাটারের তত্ত্বও মিলে যাচ্ছে, একইভাবে নিউট্রন তারার তত্ত্বের সঙ্গেও। আমরা প্রায় নিশ্চিত যে, সম্ভবত ডার্ক ম্যাটারকে পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা গেছে।’

মহাবিশ্বে ২৭ শতাংশ অংশ জুড়ে অদৃশ্য পদার্থ ডার্ক ম্যাটার রয়েছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। ডার্ক ম্যাটার কোনো আলো শোষণ, প্রতিফলন বা বিকিরণ করে না। এ ছাড়া মহাবিশ্বে দৃশ্যমান সবকিছুই যেমন—তারা, গ্রহ, মানুষ থেকে শুরু করে যা কিছু মানুষ বানায় সেসবই। আর এসব সাধারণ পদার্থ আসলে মহাবিশ্বের কেবলই ৫ শতাংশ। আর বাকি প্রায় ৬৮ শতাংশ অংশ গঠিত হয়েছে আরেক রহস্যময় উপাদান ‘ডার্ক এনার্জির’ মাধ্যমে।

গবেষকরা এখন চিলিতে নির্মাণাধীন ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে শক্তিশালী গামা-রে টেলিস্কোপ ‘চেরেনকভ টেলিস্কোপ অ্যারে অবজারভেটরি’র কাজ শেষের অপেক্ষায় আছেন। তাদের ধারণা, টেলিস্কোপটি সম্ভবত এ দুটি উৎস থেকে আসা গামা রশ্মি আলাদা করতে পারবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর দিতে পারবে। আর চলতি বছরেই চালু হতে পারে এ টেলিস্কোপ।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাড়া নিয়ে দু’দফায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

২৫ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে ট্রাম্প / ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক স্বাভাবিকের ‘সময় এসেছে’

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, ইইউর ওপর ক্ষেপলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও রাশিয়ার বিরোধিতার মধ্যেই মেয়াদ বাড়ল ভলকার টুর্কের 

যৌন হয়রানির দায়ে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান স্থায়ী বরখাস্ত

পাকিস্তানে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ২৭

শিবগঞ্জ ও মোকামতলায় দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মীর মৃত্যু, আহত আরও ৩

১০

আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সাতক্ষীরার এমপি খালেক

১১

ভুলের জন্য নাহিদ ইসলামদের উচিত দুঃখ প্রকাশ করা: রাশেদ খাঁন

১২

রাজধানীতে যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ২

১৩

সাহাবুদ্দিনসহ যেসব রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ করতে পারেননি

১৪

শনিবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৫

কয়েল জ্বালাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ শ্রমিক দম্পতি

১৬

পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

১৭

ঝাঁকড়া চুলের হৃদয়বিদারক গল্প শোনালেন স্পেনের ডিফেন্ডার

১৮

এমপির ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

১৯

মেসির অবসর ও বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে এবার মুখ খুললেন ডি মারিয়া

২০
X