কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

৬৪ জেলায় বন্ধের পথে প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন

গ্যাস সংকট
৬৪ জেলায় বন্ধের পথে প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন

চলতি মাসের শুরু থেকে হওয়া প্রকট গ্যাস সংকট শিগগির কাটছে না। বরং দিন দিন চাহিদা বাড়ায় এই সংকট সামনে আরও প্রকট হবে। সরবরাহ কমে যাওয়ার ও কারিগরি ত্রুটির জন্য পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি এলপিজির সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বারবার চেষ্টা করেও এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। বাসাবাড়ির পাশাপাশি এলপিজির সংকট পরিবহন খাতেও পড়েছে। অনেক বাসারই সবাই হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। পরিবহন খাতের এলপিজি সংকট নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

২০২০ সালের পর থেকে মূলত গ্যাস সংকটের শুরু। ওই সময় দেশি গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে ক্রমান্বয়ে উৎপাদন কমতে থাকে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত উত্তোলনযোগ্য বড় কোনো রিজার্ভ পাওয়া যায়নি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সংকট সমাধানে এখন এলএনজি আমদানিই একমাত্র ভরসা। এ ছাড়া শীতকালে সাধারণত ঠান্ডার কারণে পাইপলাইনের ভেতরে জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য তরল পদার্থ জমে যায়। যে কারণে গ্যাসের চাপ কমে যায়। পাশাপাশি শীতে বাসাবাড়িতে পানি গরম করার কারণে চাহিদা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

২০১০ সাল থেকে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আবাসিকে এলপি গ্যাসের গ্রাহক কয়েকগুণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৫ জানুয়ারির আগে এলপি গ্যাসের সংকট কাটছে না।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, সংকট কাটাতে আমাদের নতুন নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে দুটি এলএনজি টার্মিনাল করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। যাতে সামনে আমদানির মাধ্যমে সংকট মেটানো যায়।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলার) তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সর্বোচ্চ চাহিদা রয়েছে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে আমদানি করা এলএনজিসহ সরবরাহ রয়েছে আড়াই থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় সংকট রয়েছে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

গেল ডিসেম্বর থেকেই ধীরে ধীরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যেতে থাকে। চলতি মাসের শুরু থেকে এটি আরও প্রকট হয়। রাত ১টার পর গ্যাসের চাপ কিছু বাড়লেও ভোর হতেই আবার গ্যাস থাকে না। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। অনেকেই বাসাবাড়িতে রান্না করতে না পেরে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

ভূতের গলির ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিটের বাসিন্দা কামরুল শিকদার বলেন, বাসার সব খাবার গত ১৫ দিন ধরে হোটেল থেকে কিনে খাচ্ছি। তিনি বলেন, গ্যাসের চুলার বিল ঠিকই নিচ্ছে; কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। এই খাতে খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

একই কথা জানালেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মুগদা, বাড্ডা, শনিরআখড়া, রামপুরা, শান্তিবাগ, গুলবাগ, পুরান ঢাকার নবাবগঞ্জ, খিলগাঁও, শাজাহানপুর, জুরাইন, হাসনাবাদ, কেরানীগঞ্জ, সায়েদাবাদ, গ্রিন রোড, মহাখালী, আদাবর, মৌচাক, নাজিরাবাজার, নয়াবাজার, ধলপুর, মগবাজার, কল্যাণপুর ও মিরপুরের গ্রাহকরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২২শ থেকে ২৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির সিলিন্ডার। যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। পান্থপথের খুচরা ব্যবসায়ী আহাদ মুনির বলেন, মাল কম থাকায় এবং বেশি দামে কেনার কারণে দোকান গত এক সপ্তাহ ধরে অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখি। কারণ বেশি দামে বিক্রির কারণে অভিযান চলে, জরিমানা করে। সরকারের যেখানে অভিযান চালানো দরকার, সেখানে চালায় না।

গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এলপি গ্যাস সংকট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারের উৎসাহে সারা দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমানসহ অন্য নেতারা।

এদিকে, এলপিজির মতো সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই অবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বহিষ্কারের হুমকি পেয়েও মাঠে থাকার ঘোষণা এক প্রার্থীর

নির্বাচনে ‘সহজ আসন’ কম, সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বী ৩১ কেন্দ্রে

আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু, ভরি কত

শাকসু স্থগিত হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক 

যশোরে ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, দুটিতে বিদ্রোহী

ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড, কোনটি কিনবেন?

স্বর্ণের দাম দুনিয়ার সব রেকর্ড ছাড়াল

আজ ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

কিংবদন্তি অভিনেতা ব্রুস লিয়াং সিউ-লাং আর নেই

ময়মনসিংহে সরে দাঁড়ালেন ১৯ জন, ভোটে লড়বেন ৬৭ প্রার্থী

১০

দুই নেতার ব্যক্তিগত মেসেজ ফাঁস করে দিলেন ট্রাম্প

১১

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে পোস্টাল ভোটবিষয়ক মতবিনিময়

১২

পার্টটাইম চাকরি দেবে এসএমসি

১৩

মানবতাবিরোধী অপরাধ / জয়-পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

১৪

সাভারে শীতার্ত মানুষের পাশে বিএনপি

১৫

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

১৬

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সিরিয়ায় ড্রোন হামলা

১৭

টাঙ্গাইলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৯ প্রার্থী

১৮

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের ১৫ নেতাকর্মী

১৯

গাজা ইস্যুতে ফ্রান্সকে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

২০
X