

‘অযৌক্তিক চাপ তৈরি করে আমাদের ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না’—সচিবালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। অর্থাৎ নিজেদের অবস্থানেই এখনো অটল বাংলাদেশ। কোনো অবস্থাতেই ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন না লিটন দাসরা। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো একের পর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা যখন চাপের মুখে, তখনই এমন কঠোর বার্তা দিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
বিশ্বকাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ। সেটা ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলার ব্যাপারে আইসিসিকে বারবার জানিয়ে আসছে বিসিবি। টুর্নামেন্টের বাকি আর ১৭ দিন। এখনো এই জটিলতায় পরিষ্কার কোনো বার্তা দেয়নি আইসিসিও। তবে গণমাধ্যমগুলোতে নানা তথ্য দেখা যাচ্ছে। কিছু কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২১ জানুয়ারির মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি। আবার কোথাও লেখা হচ্ছে, বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে আইসিসি! তবে এ ধরনের কোনো কিছুই জানে না বিসিবি। আইসিসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় তারা।
বাইরের এ আলোচনাগুলো নিশ্চিতভাবেই চোখে পড়েছে ক্রীড়া উপদেষ্টার। বিশেষ করে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, সেটা নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার জানামতে, এমন কিছু শুনিনি যে, আমাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেবে!’ এ ধরনের সংবাদ যে চাপ সৃষ্টি করা, সেটা নিশ্চয়ই ভালো জানা ক্রীড়া উপদেষ্টার। সে কারণে কোনো চাপেই নতি স্বীকার করবে না বাংলাদেশ। দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের কাছে মাথানত করে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; অযৌক্তিক কোনো কিছু ছাপিয়ে দেয়, আমরা সে অযৌক্তিক শর্ত মানব না।’ অতীতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার জটিলতা নিরসনে আইসিসি হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল। দুই দলের জন্য ২০২৭ পর্যন্ত বিকল্প ভেন্যু রেখেই টুর্নামেন্টও আয়োজন করছে। বাংলাদেশের জন্যও সেটা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি আবারও তার দাবির কথা উল্লেখ করে বলেন, যৌক্তিক কারণেই ভারতে খেলতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ, ‘এর আগে এমন আরও উদাহরণ আছে। পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না।’
পরিস্থিতি এখন এতটাই ঘোলাটে যে বাংলাদেশের আদৌ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা কতটুকুই বা শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তন না করে আইসিসি যদি বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করে, বাংলাদেশ তখন কী সিদ্ধান্ত নেবে… তা নিয়েও কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মনে প্রশ্ন ঘুরে ফিরছে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও আছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে। মঙ্গলবার বিপিএলের ম্যাচের পর যেমনটা বললেন, ‘যদি আপনি জানতেন যে আপনার গ্রুপে কে থাকবে, আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, এটা সাহায্য করত। এখন এসব নিয়ে ভাবার সুযোগ আমাদের হাত নেই….। আপনারা তো এর মধ্যেই দল জানেন যে কোন ১৫ জন যাবে। আমরা সেই ১৫ জনও এখনো জানি না যে আমরা কোন দেশে যাচ্ছি বা আমাদের প্রতিপক্ষ কে? আমরা সবাই এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সে কারণেই আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চিত।’ ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক বৈরিতা থেকেই তো এমন জটিলতা। লিটনকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করার আগেই তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি আপনি কী প্রশ্ন করবেন। ওটার উত্তর দেওয়া আমার জন্য নিরাপদ না।’ শুধু বলব, বিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো দেশের মতো আমরা ক্রিকেটাররাও আছি।
মন্তব্য করুন