চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে পণ্যের দাম বাড়ানোকে স্বাভাবিক মনে করা হলেও কৃত্রিমভাবে বাজারে কোনো পণ্যের সংকট বা কারসাজি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। এ ছাড়া টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকে করে দেশের এক কোটি পরিবারকে স্বল্পমূল্যে যে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, এ ব্যবস্থার পক্ষে নন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালবেলার নিজস্ব প্রতিবেদক জুনায়েদ শিশির
কালবেলা: দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েকদিন। এর মধ্যে বাজারে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আপনার পরিকল্পনা কী?
আহসানুল ইসলাম: ঠিক বলেছেন, দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র কয়েকদিন হলো। তবে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের পরামর্শ নিয়েছি। বিশেষ করে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপ হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর ও অন্যদের সঙ্গেও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আর নিত্যপণ্যের দামের বিষয়ে? প্রথমত, সব পণ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে না। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পদক্ষেপ নিতে পারব। খাদ্য, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আলাদা দিক রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দরদাম ঠিক করে দিলে আমরা সেটি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে কাজ করতে পারব। আমদানি বা রপ্তানিতে তাদের পরামর্শ থাকলে সেটিরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরেকটি বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে কোনো পণ্যের যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। এমন কোনো সংকট হতে পারবে না, যাতে বাজার থেকে পণ্য উধাও হয়ে যায়। এটি আমি হতে দেব না। পণ্য
থাকলে তা বাজারে সরবরাহ থাকবে। না থাকলে সরবরাহ থাকবে না। প্রকৃত সংকট থাকলে সমাধানের পথ থাকবে। কেউ কারসাজি করে পার পাবে না।
কালবেলা: সামনে রমজান। সে ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে ব্যবসায়ীরা আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। রমজানে দাম না বাড়িয়ে প্রশংসা নিতে এমনটি করা হচ্ছে বলে ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত। এ বিষয়ে আপনার মত কী?
আহসানুল ইসলাম: এবারের রোজার আগেই আলুর সিজন শেষ হবে। একইভাবে পেঁয়াজ ও চালের উৎপাদন মৌসুম শেষে মজুত করা হবে। ফলে রোজায় স্থানীয় পণ্যের কোনো অভাব হবে না। দাম না বেড়ে বরং কমবে। আর আমদানি পণ্যের যাতে সমস্যা না হয়, সে দিকে সরকারের মনোযোগ রয়েছে।
কালবেলা: ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন। এখনো করা হচ্ছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আহসানুল ইসলাম: শুল্ক কেন ছাড় দেব! আমদানিতে রাজস্ব থাকবে। আসল কথা হলো, শুল্ক কমানোর কারণে যেটুকু পণ্যের দাম কমবে, সেটি সাধারণ মানুষ কিন্তু পায় না। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন কৌশলগত কারণে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর আগেও শুল্ক কমানো হয়েছিল; কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
কালবেলা: সরকার টিসিবির মাধ্যমে দেশের এক কোটি পরিবারকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। আপনার সময়ে এই কার্যক্রমে গতি কেমন হবে?
আহসানুল ইসলাম: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে কার্যক্রম চলছে, সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য সব ধরনের সহায়তা টিসিবি পাবে। ইতোমধ্যে টিসিবি নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে রমজানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সব থেকে বেশি সময় টিসিবির সঙ্গে কাটিয়েছি। এ বিষয়ে গুরুত্ব আছে বলেই তাদের সঙ্গে বসেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি ট্রাক সেলের বিপক্ষে মতামত দিয়েছি। কারণ দেশের জনগণ কেন রাস্তায় খাদ্যের জন্য দাঁড়াবেন। বাজারে নির্দিষ্ট দোকান থাকবে। রেশন কার্ড থাকবে, যে যার চাহিদা বা বরাদ্দ মতো পণ্য নিয়ে যাবেন। আমি চাই, কাউকে যেন খাবারের জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়।