

কোরিয়ান ড্রামাপ্রেমীদের জন্য সুখবর। বহুল আলোচিত কোরিয়ান সিনেমা ‘ইভেন ইফ দিস লাভ ডিসেপিয়ার্স টুনাইট’ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হতে চলেছে। ছবিটির নির্মাতা কিম হাই-ইয়ং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ২৮ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন টিজার ক্লিপ প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই মুক্তির ঘোষণা আসে। এর আগে ছবিটি ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর, বড়দিন উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথে না গিয়ে নির্মাতারা সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মকেই বেছে নিয়েছেন, যাতে বিশ্বের দর্শকরা একই সঙ্গে গল্পটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। টিজার ক্লিপে দেখা যায়, দুই কিশোর-কিশোরী সম্পর্কে জড়ানোর আগে এক অদ্ভুত শর্তে সম্মত হয়। তারা একে অপরের প্রতি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়বে না। শুরুতে হালকা বন্ধুত্ব ও নির্ভার দেখা-সাক্ষাৎ হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মাঝে জন্ম নিতে থাকে তরুণ বয়সের নিঃশব্দ প্রেম। কিন্তু এক সকালে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। মেয়েটি কিছুই মনে করতে পারে না—এমনকি ছেলেটিকেও চিনতে ব্যর্থ হয়। সেই শূন্যতার মধ্যেও ছেলেটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে, যতদিন সম্ভব, প্রতিটি দিনকে সে তার জন্য আনন্দে ভরিয়ে দেবে। ছবিতে চু ইয়ং উ অভিনয় করেছেন কিম জে-ওন চরিত্রে। যিনি একজন হাই স্কুল শিক্ষার্থী, যার জীবনে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। বংশগত হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রতিটি দিনই তার কাছে শেষ দিনের মতো মূল্যবান।
বিপরীতে, শিন সি আহ অভিনীত হান সিও-ইউন প্রতিদিন সকালে জেগে ওঠে অ্যান্টেরোগ্রেড অ্যামনেশিয়া নিয়ে—আগের দিনের কোনো স্মৃতি তার মনে থাকে না, যেন প্রতিটি সকালই নতুন জীবন। গুরুতর রোগ সত্ত্বেও সে জীবনকে দেখে ইতিবাচক দৃষ্টিতে, প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল মানসিকতায়।
দুজনের পথ একসময় মিলিত হয়, আর ধীরে ধীরে তারা একে অপরের জীবনে হয়ে ওঠে আশ্রয়, শক্তি ও নীরব রক্ষাকর্তা।
মিসাকি ইচিজোর একই নামের জনপ্রিয় জাপানি উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই গল্পটি প্রথমবার পর্দায় আসে ২০২২ সালে, জাপানি চলচ্চিত্র ‘ইভেন ইফ দিস লাভ ডিসেপিয়ার্স ফর্ম দ্য ওয়ার্ল্ড টুনাইট’ হিসেবে, যেখানে অভিনয় করেছিলেন শুনসুকে মিচিয়েদা ও রিকো ফুকুমোতো।
তবে কিম হে ইয়ং পরিচালিত আসন্ন এই আবেগঘন রোমান্টিক ড্রামা দর্শকদের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নেটফ্লিক্সে উন্মুক্ত হবে ভালোবাসা, স্মৃতি আর ক্ষণস্থায়ী জীবনের এক নিঃশব্দ ও গভীর গল্প নিয়ে।
মন্তব্য করুন